সাবেক ফুটবলার ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তাঁর সাবেক ক্লাব আবাহনী ক্লাব লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন। ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবে তাঁর অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। দলবদলের সময় আবাহনী তাঁকে পেতে অনেকবার চেষ্টা করেছিল। তবে এখন সেই দিনগুলো অতীত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আবাহনী ক্লাব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার প্রত্যয়
আবাহনী পরিদর্শনের সময় আমিনুল হক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রীর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আবাহনী ও মোহামেডানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের ফুটবলের ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু গত ১৭ বছরে এই ক্লাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। বর্তমান সরকার ক্লাবগুলোকে স্বাধীনভাবে পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।
ক্লাবের গৌরব ফিরিয়ে আনার আশা
আমিনুল হক আবাহনী ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট নতুনভাবে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ সব ইভেন্টে ক্লাবের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আশাবাদ জানান। তিনি ক্রীড়াঙ্গনকে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি থেকে রক্ষায় খেলাধুলার বিকল্প নেই। তিনি মাঠের বাইরে সব ক্লাবের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। মোহামেডানের কর্মকর্তার আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে উপস্থিত থাকাকে তিনি স্পোর্টসম্যানশিপের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে আমিনুল হক জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ২ মে থেকে সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষাবর্ষে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেন তিনি।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপের অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূইয়া এবং বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাসহ বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা। প্রতিমন্ত্রী অন্যান্য ক্লাবও ধারাবাহিকভাবে পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।



