ইরানের জায়গায় ইতালিকে বিশ্বকাপে আনার প্রস্তাব নাকচ
ইরানের জায়গায় ইতালিকে বিশ্বকাপে আনার প্রস্তাব নাকচ

ইতালি দলরয়টার্স ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানকে সরিয়ে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করতে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ দূত। কিন্তু এমন প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছেন ইতালির ক্রীড়া কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেছেন, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি বিশ্বকাপে ইরানের পরিবর্তে খেলতে আগ্রহী নয়। ফিফাও এমন কিছুর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চললেও ইরান বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে অটল। বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা না–খেলা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে অনেক দিন ধরেই। তবে ফিফা শুরু থেকেই সূচি অনুযায়ী ইরানের বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলির একটি মন্তব্যে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে জাম্পোলি বলেছেন, তিনি ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে ইতালিকে ইরানের বিকল্প হিসেবে বিশ্বকাপে বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাম্পোলি বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক প্রস্তাব নয়।’ তাঁর দাবি, শেষ মুহূর্তে যদি ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারে, সে ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছেন। জাম্পোলি এপিকে বলেন, ‘এটা ছিল আমার একটা স্বপ্ন। ইতালীয় এবং ইতালীয়–আমেরিকানদের জন্যই এ অনুরোধ করেছি।’ ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতালির বিশ্বকাপে খেলা যুক্তিসংগত হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কিন্তু ইতালি এ প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি স্কাই নিউজকে বলেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালির পুনরায় যোগ্যতা অর্জনের প্রশ্নই ওঠে না। প্রথমত, এটা সম্ভব নয়; দ্বিতীয়ত, এটা উপযুক্তও নয়। কোনটা আগে বলব বুঝতে পারছি না। যোগ্যতা অর্জন করতে হয় মাঠের খেলায়।’

ইতালির সব খেলাধুলার তদারক করা অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুচিয়ানো বুয়োনফিগ্লিও বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি এটাকে অপমানজনক মনে করব। বিশ্বকাপে খেলতে হলে সেটার যোগ্যতা অর্জন করেই যেতে হয়।’ ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকার্লো জর্জেত্তিও এ প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকেরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে কি না? শুরুতে ট্রাম্প হালকা মেজাজে বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে খুব একটা ভাবিনি।’ পরে যোগ করেন, ‘প্রশ্নটা বেশ মজার। এটা নিয়ে আমাকে একটু ভাবতে দিন।’

এরপর ট্রাম্প পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিকে প্রশ্নটি ঠেলে দেন। রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কিছু বলা হয়নি যে তারা আসতে পারবে না।’ রুবিও আরও বলেন, ‘সমস্যা ইরানকে নিয়ে, তাদের খেলোয়াড়দের নয়। সমস্যা হতে পারে তাদের সঙ্গে আসা অন্য কিছু লোককে নিয়ে।’ তাঁর মতে, ইরান ফুটবল দল সাংবাদিক বা কোচের পরিচয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুগত কিছু লোককে সঙ্গে আনতে পারে।

রুবিওর ভাষায়, ‘দলের আশপাশের কিছু লোককে আমরা হয়তো ঢুকতে দিতে পারব না, তবে খেলোয়াড়দের নয়। এমনও শোনা যাচ্ছে, ইরান হয়তো নিজেই না আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তখন ইতালি তাদের জায়গা নিতে পারে।’ তবে বলটা শেষ পর্যন্ত ইরানের কোর্টে ঠেলে দিয়ে রুবিও বলেন, ‘যদি তারা না আসে, সেটি তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তেই হবে।’

রোমে অবস্থিত ইরান দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জাম্পোল্লির বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে দূতাবাসটি লিখেছে, ‘ফুটবল জনগণের, রাজনীতিবিদদের নয়। ইতালি তার ফুটবলদক্ষতা মাঠে প্রমাণ করেছে, কোনো রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে নয়। ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করে, যারা মাঠে ১১ জন তরুণ ইরানির উপস্থিতিকেও ভয় পায়।’

ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকার্লো জর্জেত্তিও ইরানের বদলে বিশ্বকাপে খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। বাছাইপর্বে ইরান বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী প্রথম দিকের দলগুলোর একটি, সেখানে ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা পেতে ব্যর্থ হয়েছে। এর জেরে দেশটির জাতীয় দলের কোচ এবং ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিকে পদত্যাগ করতে হয়।

বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ইরান গ্রুপ পর্বে তাদের তিনটি ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। গ্রুপ পর্ব শেষে যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তবে শেষ ৩২–এর লড়াইয়ে ডালাসে মুখোমুখি হতে পারে দুই দল।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালানোর পর থেকে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ‘শত্রুদেশে’ দল পাঠাবে না জানিয়ে ভেন্যু বদলানোর দাবি জানায় ইরান। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার ইঙ্গিত দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলেন। তবে ফিফা শুরু থেকেই পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় এবারও ইরানের বদলে ইতালির বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছে তারা।