একই মাঠে উড়ছে আকাশী-নীল আর হলুদ-সবুজ পতাকা। এক পক্ষ গাইছে কাওয়ালি গান, অন্য পক্ষ উপহার দিচ্ছে সৌদি আরবের আজওয়া খেজুর। ফুটবল বিশ্বকাপের চিরন্তন বৈরিতা ভুলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের এমন এক নজিরবিহীন ও সম্প্রীতির যৌথ র্যালির সাক্ষী হলো বগুড়াবাসী।
বিশ্বকাপ জ্বর ও পরিবেশ দিবস উদযাপন
ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ সামনে রেখে ইতোমধ্যে ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত সারাদেশ। বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হতেই বাড়ছে সমর্থকদের উন্মাদনা। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জড়ো হন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার শত শত সমর্থক। এদিন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে যুবকদের মধ্যে এক ভিন্ন সচেতনতাও দেখা যায়। আনন্দ শোভাযাত্রা শুরুর আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা খেলার মাঠের পাশে তিনটি বৃক্ষরোপণ করেন।
এরপর বিকেল সাড়ে চারটা গড়াতেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ রূপ নেয় নীল-সাদা আর হলুদ-সবুজের সমুদ্রে। ৬ শতাধিক আর্জেন্টিনা ভক্ত এবং শতাধিক ব্রাজিল ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। ব্যান্ড পার্টি, বাঁশি, রঙিন বেলুন, পতাকা, মাথার ফিতা ও ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে শুরু হয় যৌথ আনন্দ শোভাযাত্রা। দুই দলের সমর্থকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেচে-গেয়ে অংশ নেন উৎসবে।
কাওয়ালি ও উপহার বিনিময়
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা এলাকায় পৌঁছালে দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য। সেখানে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্দেশে কাওয়ালি গান পরিবেশন করেন। পরে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি পুনরায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এসে শেষ হয়। তবে উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্বটি ছিল র্যালি শেষে দুই দলের উপহার বিনিময়। সম্প্রীতির নজির টেনে ব্রাজিল সমর্থকরা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতে তুলে দেন সৌদি আরবের বিখ্যাত আজওয়া খেজুর। পাল্টা সৌজন্য হিসেবে আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও ব্রাজিল সমর্থকদের উপহার দেন সেভেন আপ।
আয়োজকদের বক্তব্য
আয়োজনের অন্যতম সমন্বয়ক ও আর্জেন্টিনা সমর্থক মাহবুব আলম জিয়ন বলেন, খেলার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সবাই বন্ধু। পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই আয়োজন। এসময় গতবারের মতো এবারও আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপ জিতবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আর্জেন্টিনা সমর্থক ও আকবরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল বলেন, ফুটবল এমন একটি খেলা, যা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে একত্রিত করে। মেসির শেষ বিশ্বকাপে তরুণদের নিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও শিরোপা জিতবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
এদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মারামারির সংস্কৃতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই যৌথ আয়োজনকে মধুর র্যালি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিল সমর্থক আখতারুজ্জামান সোহাগ। তিনি বলেন, দল যার যারই হোক, তারা সবাই একে অপরের ভাই। তবে ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে তিনি আশাবাদী যে এবার হেক্সা মিশন পূর্ণ হবে এবং নেইমারের হাতেই কাপ উঠবে। ব্রাজিল সমর্থক কমিটির পরিমল প্রসাদ রাজও বগুড়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে ব্রাজিলের জয়ের আশা ব্যক্ত করেন।
পুরো আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আকবরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুজিত জয়সোয়াল, পরিমল প্রসাদ রাজ, আব্দুস সালাম বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কর্মব্যস্ততার মাঝেও বগুড়াবাসীকে একটি সুশৃঙ্খল, আনন্দঘন ও সম্প্রীতিপূর্ণ উৎসব উপহার দেওয়ায় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা। তাদের মতে, খেলাধুলা ঘিরে এমন ইতিবাচক আয়োজন সমাজে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও শক্তিশালী করবে।



