মেক্সিকো সিটিতে মানবঢেউয়ের বিশ্বরেকর্ডের চেষ্টা
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ‘মেক্সিকান ওয়েভ’-এর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে মেক্সিকো সিটি। শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর অন্যতম প্রধান সড়ক পাসেও দে লা রেফর্মায় হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবঢেউ বা ‘মেক্সিকান ওয়েভ’ তৈরির চেষ্টা করেন।
এ আয়োজনের মাধ্যমে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ‘মেক্সিকান ওয়েভ’-এর জনপ্রিয় হয়ে ওঠার ৪০ বছর পূর্তিও উদযাপন করা হয়। যদিও এই দর্শক উদ্দীপনার ঐতিহ্যের প্রকৃত উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ক্রীড়া ভেন্যুও এর প্রাথমিক রূপের দাবি করে।
মেক্সিকো আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ। এর মাধ্যমে দেশটি তৃতীয়বারের মতো পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন বা সহ-আয়োজনের ইতিহাস গড়বে। এর আগে তারা ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল।
শনিবার সকালে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া পাসেও দে লা রেফর্মায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেকেই মেক্সিকো জাতীয় ফুটবল দলের সবুজ জার্সি পরে, হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে ‘মেক্সিকো, মেক্সিকো’ ধ্বনি তোলেন। এরপর সমন্বিতভাবে হাত উঁচিয়ে তৈরি করেন ঢেউয়ের মতো দৃশ্য, যা পুরো জনসমাগমে ছড়িয়ে পড়ে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিদ্যমান রেকর্ড
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ইতোমধ্যে ‘মেক্সিকান ওয়েভ’ সংক্রান্ত কয়েকটি বিভাগ স্বীকৃতি দিয়েছে। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বড় ওয়েভ হয়েছিল ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে অংশ নিয়েছিলেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৪ জন। সবচেয়ে দীর্ঘ ওয়েভ লাইনের রেকর্ড ২০০৭ সালে পর্তুগালে ৮ হাজার ৪৫৩ জনের অংশগ্রহণে গড়া হয়। আর সময়ের হিসেবে দীর্ঘতম ওয়েভটি ২০১৫ সালে জাপানে ১৭ মিনিট ১৪ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল।
মেক্সিকো সিটি সরকারের এক মুখপাত্র জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল স্টেডিয়ামের বাইরে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় ‘মেক্সিকান ওয়েভ’-এর রেকর্ড গড়া। তিনি বলেন, এটি কোনো বিদ্যমান রেকর্ড ভাঙার বিষয় নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন একটি রেকর্ড স্থাপনের চেষ্টা। তাই গিনেস কর্তৃপক্ষ সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে এবং তারা বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দূর থেকে আসা তেরেসা লোপেজ বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়েভের অংশ হতে এবং আমাদের জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতেই আমরা এখানে এসেছি। আমরা মেক্সিকান, আর আমাদের দেশ নিয়ে আমরা গর্বিত।
বিদেশি পর্যটকরাও এই উৎসবমুখর পরিবেশে শামিল হন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাজধানীতে আসা পর্যটক ভিভিয়া শাইভার্স বলেন, এটি একটি বিশেষ আয়োজন। বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত এমন একটি মুহূর্তের অংশ হতে পেরে দারুণ লাগছে।



