প্রীতি ম্যাচে আইভরিকোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে ইরাকের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে স্পেন। এই ফলাফলের ফলে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। ফ্রান্স শীর্ষস্থান থেকে দুই ধাপ নেমে তৃতীয় অবস্থানে চলে গেছে। আর্জেন্টিনা দুই ধাপ লাফিয়ে পুনরায় শীর্ষস্থান দখল করেছে। স্পেন দ্বিতীয় স্থানে অপরিবর্তিত রয়েছে। ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে। ব্রাজিল রয়েছে ষষ্ঠ অবস্থানে।
র্যাঙ্কিং পদ্ধতি ও হালনাগাদ
চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে রিয়েল-টাইম (তাৎক্ষণিক) আপডেট পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ম্যাচের গোলের ওপর ভিত্তি করে র্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন, অর্থাৎ আগামী ১০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এই র্যাঙ্কিং হালনাগাদ করা হবে।
আসন্ন প্রীতি ম্যাচ
ফিফা র্যাঙ্কিং আনুষ্ঠানিক হালনাগাদের আগে দলগুলোর আরও কিছু প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ছয়টায় হন্ডুরাসের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টায় আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। ফ্রান্স সোমবার রাতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে।
বর্তমান পয়েন্ট তালিকা
বর্তমান র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ১৮৭৪.৮১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা। স্পেন ১৮৭৩.০১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় এবং ফ্রান্স ১৮৬৯.৪৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
শীর্ষস্থানে ফেরার ইতিহাস
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দল ছিল আর্জেন্টিনা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেমে যাওয়ার আগে টানা ৮৯৩ দিন সিংহাসনটি দখলে ছিল লিওনেল স্কালোনির দলের। আবার শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়ায় আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা খুশি হলেও একটি দুশ্চিন্তার দিক রয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে থেকে বিশ্বকাপ শুরু করা দলগুলো এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।
‘ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের অভিশাপ’
ফিফা র্যাঙ্কিং চালু হয়েছে ১৯৯৩ সালে। এরপর শীর্ষ দল হিসেবে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলতে নামে জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। চার বছর পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দল হিসেবে খেলতে নেমে ফাইনালে হারে। চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। সেবার র্যাঙ্কিংয়ে ১৮তম দল হিসেবে বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিল স্বাগতিকেরা।
নতুন শতাব্দীতেও এই ধারা বদলায়নি। র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দল হিসেবে ২০০২ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিল ফ্রান্স। একটি গোলও না করতে পেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় তারাদ; সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থান নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে নামা ব্রাজিল।
২০০৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দল হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে নেমে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। আর চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি—যারা বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিল র্যাঙ্কিংয়ে ১৩তম দল হিসেবে।
২০১০ বিশ্বকাপেও ব্রাজিল র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে থেকে বিদায় নেয়। র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় হয়ে বিশ্বকাপে নামা স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে স্পেন শীর্ষ দল হিসেবে খেলতে নেমেছিল স্পেন। কিন্তু বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্ব থেকেই। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে নামা জার্মানি।
২০১৮ বিশ্বকাপে জার্মানি ছিল র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দল। কিন্তু তারাও বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল র্যাঙ্কিংয়ে সাতে থেকে বিশ্বকাপে খেলতে নামা ফ্রান্স। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিল র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দল। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়। চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা—যারা টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল তিনে থেকে।



