কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্ম এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকটি ট্রেন আটকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ থাকার পর রাত ১টা ৫০ মিনিটে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে: পুলিশ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য মো. মুছা মিয়া। জানা গেছে, ১৫ দিন আগে ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এবং জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়। এই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভৈরব স্টেশন প্ল্যাটফর্ম এলাকায় জগন্নাথপুর এলাকার সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে মারধর করেন পঞ্চবটি এলাকার লোকজন।
সংঘর্ষ ও ক্ষয়ক্ষতি
এ ঘটনায় উভয় এলাকার বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে পুলিশ, আরএনবি সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন পার্শ্ববর্তী স্টেশনে আটকা পড়ে। আটকে পড়া ঢাকাগামী মহানগর প্রভাতি ও গোধূলি, পারাবত এক্সপ্রেস, এগারো সিন্ধুর এক্সপ্রেস, তিতাস কমিউটার ও কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশসহ থানা পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আটকে পড়া ট্রেনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক করেন। ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ জানান, ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে পুরো স্টেশন এলাকা রণক্ষেত্র পরিণত হয় এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাত ১টা ৫০ মিনিটে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ভৈরব স্টেশন ছেড়ে যায় এবং আটকে পড়া সব ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মো. সাঈদ আহমেদ জানান, দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং স্টেশন এলাকার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী অবস্থান করছে।



