বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শতভাগ সফল থাকার রেকর্ডটি স্পেনের দখলে ছিল। ১৯৩৪ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা ৭২ বছর বিশ্বকাপ ম্যাচে নেওয়া প্রথম ১৪টি পেনাল্টির প্রতিটিই জালে জড়িয়েছে তারা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এমন নিখুঁত রেকর্ড আর কোনো দলের নেই।
রেকর্ডের শুরু ও ধারাবাহিকতা
স্পেনের এই অনন্য কীর্তির শুরু ১৯৩৪ সালে হোসে ইরারাগোরির পা থেকে। এরপর বিভিন্ন প্রজন্মের তারকারা সেই ধারা ধরে রেখেছেন। ১৯৮২ বিশ্বকাপে রবার্তো লোপেজ উফার্তে ও হুয়ানিতো, ১৯৮৬-তে আন্দোনি গোইকোয়েচেয়া ও এমিলিও বুত্রাগুয়েনো, ১৯৯০-এ মিচেল, ১৯৯৪-এ পেপ গার্দিওলা ও চিকি বেগিরিস্তাইন, ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপে টানা তিনটি পেনাল্টিতে সফল ফার্নান্দো ইয়েরো এবং ২০০৬ সালে ডেভিড ভিয়া ও ফার্নান্দো তোরেস সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। ভিয়া ২০০৬ আসরে দুবার পেনাল্টি থেকে গোল করেন।
পেনাল্টি প্রতিরোধেও স্পেনের দাপট
শুধু নিজেদের সাফল্যই নয়, পেনাল্টি প্রতিরোধেও ছিল স্পেনের দাপট। এই সময়ে তাদের বিপক্ষে নেওয়া পাঁচটি পেনাল্টির মধ্যে গোল হয়েছিল মাত্র দুটি। ডেনমার্কের ইয়েসপার ওলসেন ও আয়ারল্যান্ডের রবি কিন সফল হলেও ব্রাজিলের ভালদেমার দে ব্রিতোর শট ঠেকিয়ে দেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক রিকার্দো জামোরা। একই কীর্তি গড়েন ইকার কাসিয়াসও, যিনি রুখে দেন আয়ারল্যান্ডের ইয়ান হার্টের শট। আর উরুগুয়ের রুবেন সোসা তো বলই পাঠিয়েছিলেন ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে।
রেকর্ডের ইতি
তবে সব রেকর্ডেরই শেষ আছে। স্পেনের সেই অবিশ্বাস্য ধারার ইতি ঘটে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে প্রথম পেনাল্টি নেওয়ার ৭৬ বছর পর প্রথমবারের মতো স্পট-কিক থেকে ব্যর্থ হয় স্পেন। হন্ডুরাসের বিপক্ষে ডেভিড ভিয়া বল বাইরে মেরে হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া করেন।
মজার ব্যাপার হলো, সেই বিশ্বকাপেই স্পেনের পরবর্তী পেনাল্টিটিও মিস করেন জাবি আলোনসো। কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তার শট ব্যর্থ হলেও শেষ দিকে গোল করে দলকে রক্ষা করেন ভিয়াই।
বর্তমান অবস্থা
এরপর অবশ্য আবার পেনাল্টি থেকে সফল হয়েছে স্পেন। আলোনসো ও ফেরান তোরেস বিশ্বকাপে তাদের পরবর্তী দুটি স্পট-কিক থেকে গোল করেন। ফলে বিশ্বকাপে স্পেনের পেনাল্টি রেকর্ড এখন ১৮টির মধ্যে ১৬টি সফল, মাত্র ২টি ব্যর্থ।
টাইব্রেকারে ব্যর্থতা
তবে পরিসংখ্যানের আরেকটি দিক স্পেনের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। ম্যাচ চলাকালে পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ সফল হলেও টাইব্রেকারে ঠিক উল্টো চিত্র। বিশ্বকাপ ইতিহাসে পাঁচবার টাইব্রেকারে অংশ নিয়ে চারবারই হারতে হয়েছে ইউরোপের এই শক্তিশালী দলকে। ফুটবলের নির্মম সৌন্দর্য বোধহয় এখানেই। ৯০ মিনিটের পেনাল্টিতে যে দল প্রায় নিখুঁত, টাইব্রেকার মঞ্চে তারাই আবার সবচেয়ে বেশি হতাশার জন্ম দিয়েছে।



