ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও থামছেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়স ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য। তবে শুধু ২০২৬ নয়, ২০৩০ বিশ্বকাপেও রোনালদোকে মাঠে দেখা যাবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্তিনেজের।
কোচের আস্থা
স্প্যানিশ রেডিও ক্যাডেনা সেরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ বলেন, “কেউ সন্দেহ করতে পারে না যে রোনালদো ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলতে পারে। সে এমন বিশ্বাস অর্জন করেছে।” ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ রোনালদোর জন্মভূমি পর্তুগাল, যা তাকে বাড়তি প্রেরণা জোগাতে পারে।
অবিস্মরণীয় ক্যারিয়ার
২০০৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পর্তুগালের জার্সিতে অভিষেক হয় রোনালদোর। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল করেছেন রোনালদো।
তার নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে পর্তুগাল। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন তিনি, যা ১৯৬৬ সালে তৃতীয় হওয়ার পর বিশ্বকাপে পর্তুগালের অন্যতম সেরা সাফল্য।
নতুন ইতিহাস
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে নতুন ইতিহাসও গড়েন রোনালদো। প্রথম ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারের রহস্য
রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্তিনেজ বলেন, “আমি অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছি, যারা চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ব্যালন ডি’অর জয়ের পরই প্রেরণা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু রোনালদো সম্পূর্ণ ভিন্ন মানসিকতার উদাহরণ।”
পর্তুগাল কোচের মতে, “এই লক্ষ্যই তাকে এত দীর্ঘ সময় ধরে খেলতে সাহায্য করছে। অবশ্যই তার জেনেটিক সুবিধা রয়েছে এবং নিজের শরীরের যত্নে সে সম্ভাব্য সবকিছুই করে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় তার মানসিকতা।” তিনি মনে করেন, রোনালদোর অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তাগিদই তাকে এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার শক্তি জোগাচ্ছে।
আগামী বিশ্বকাপ
৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে খেলবে পর্তুগাল। ১৭ জুন হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে।



