কানাডা জাতীয় ফুটবল দলের কোচ জেসি মার্শ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন। সহ-আয়োজক কানাডা গ্রুপ বি-তে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কাতার এবং সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
ডেভিসের অন্তর্ভুক্তি
গত সপ্তাহে মার্শ নিশ্চিত করেছিলেন যে, সুপারস্টার ফুল-ব্যাক আলফোনসো ডেভিস হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে দলে রয়েছেন। তবে এই চোট তাকে ১২ জুন টরন্টো স্টেডিয়ামে বসনিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে খেলতে বাধা দিতে পারে। বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা জার্মানিতে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ৩১ মে পর্যন্ত দলের সঙ্গে যোগ দেবেন না।
দলের ভারসাম্য
দলে কাতার ২০২২ অভিযানের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যেমন ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড এবং সাইল লারিনের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন দ্বৈত নাগরিকত্বধারী খেলোয়াড়ও রয়েছেন। গত দুই বছরে মার্শ যাদের দলে নিয়ে এসেছেন তাদের মধ্যে ডিফেন্ডার আলফি জোন্স, লুক ডি ফুজেরোলস, নিকো সিগুর এবং ফরোয়ার্ড প্রমিজ ডেভিড উল্লেখযোগ্য।
রয়্যাল ইউনিয়ন সেন্ট-গিলোয়েজের এই ফরোয়ার্ড গুরুতর হিপ ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। তার বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। তিনি চার ফরোয়ার্ডের মধ্যে একজন, ড্যানিয়েল জেবিসন দল থেকে বাদ পড়েছেন।
প্রমিজ ডেভিড টিএসএনকে বলেন, 'আমি ভাবিনি দলে সুযোগ পাব... আমি প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু জেসি আমাকে ফোন করে বললেন, 'আমরা তোমাকে যতটা সময় প্রয়োজন দেব... তুমি ঠিক হয়ে যাবে'।'
মিডফিল্ডার আলি আহমেদের গল্প
দশ মিডফিল্ডারের মধ্যে রয়েছেন নরউইচ সিটির উইঙ্গার আলি আহমেদ। ছয় বছর আগে তিনি ইংলিশ নন-লিগ ক্লাব এনফিল্ড টাউন, চেশান্ট এফসি এবং টুটিং অ্যান্ড মিচাম ইউনাইটেডে ট্রায়াল দিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশ ছিলেন।
গোলরক্ষক নিয়ে সিদ্ধান্ত
মার্শ গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের জন্য প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক কে হবেন তা এখনও ঠিক করেননি। অরল্যান্ডো সিটির ম্যাক্সিম ক্রেপো এবং ইন্টার মিয়ামির ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার উভয়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
আগামী ১ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। ক্রেপো টিএসএনকে বলেন, 'সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, আমরা একে অপরের এবং দলের জন্য মাঠে ও মাঠের বাইরে থাকব।' কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের আগে পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি সেই টুর্নামেন্টে খেলতে পারেননি। এটি তার প্রথম বিশ্বকাপ হবে।
পূর্ণ দল
গোলরক্ষক
- ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার (ইন্টার মিয়ামি/মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
- ম্যাক্সিম ক্রেপো (অরল্যান্ডো সিটি/মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
- ওয়েন গুডম্যান (ক্রিস্টাল প্যালেস/ইংল্যান্ড)
ডিফেন্ডার
- অ্যালিস্টার জনস্টন (সেল্টিক/স্কটল্যান্ড)
- ডেরেক কর্নেলিয়াস (মার্সেই/ফ্রান্স)
- রিচি লারিয়া (টরন্টো এফসি/কানাডা)
- নিকো সিগুর (হাজদুক স্প্লিট/ক্রোয়েশিয়া)
- জোয়েল ওয়াটারম্যান (শিকাগো ফায়ার/মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
- লুক ডি ফুজেরোলস (ফুলহাম/ইংল্যান্ড)
- মোইস বোম্বিটো (নিস/ফ্রান্স)
- আলফোনসো ডেভিস (বায়ার্ন মিউনিখ/জার্মানি)
- আলফি জোন্স (মিডলসব্রো/ইংল্যান্ড)
মিডফিল্ডার
- স্টিফেন ইউস্টাকিও (পোর্তো/পর্তুগাল)
- ইসমাইল কোনে (সাসুওলো/ইতালি)
- তাজন বুকানন (ভিয়ারিয়াল/স্পেন)
- ম্যাথিউ শোয়ানিয়েরে (লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি/মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
- আলি আহমেদ (নরউইচ সিটি/ইংল্যান্ড)
- নাথান সালিবা (আন্দারলেখট/বেলজিয়াম)
- লিয়াম মিলার (হাল সিটি/ইংল্যান্ড)
- মার্সেলো ফ্লোরেস (টাইগ্রেস ইউএএনএল/মেক্সিকো)
- জ্যাকব শ্যাফেলবার্গ (টরন্টো এফসি/কানাডা)
- জোনাথান ওসোরিও (টরন্টো এফসি/কানাডা)
আক্রমণভাগের খেলোয়াড়
- জোনাথন ডেভিড (জুভেন্টাস/ইতালি)
- সাইল লারিন (সাউদাম্পটন/ইংল্যান্ড)
- তানি ওলুওয়াসেয়ি (ভিয়ারিয়াল/স্পেন)
- প্রমিজ ডেভিড (ইউনিয়ন সেন্ট-গিলোয়েজ/বেলজিয়াম)
সূত্র: ফিফা, এএফপি



