শিরোপা জয়ের আনন্দ সাধারণত বড় প্যারেড বা নিজেদের মাঠে দর্শকদের সঙ্গে উদযাপন করা হয়। কিন্তু পিএসজি যেভাবে ফ্রেঞ্চ লিগ শিরোপা উদযাপন করেছে, তাতে সবার চক্ষু চড়কগাছ। নিজেদের লিগ জয়ের আনন্দ তারা করেছে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী প্যারিস এফসির মাঠের এক কোণায়।
শিরোপা নিশ্চিতের পর অপ্রত্যাশিত বাধা
গত ১৩ মে আরসি লেন্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে লুইস এনরিকের দল। নিয়ম অনুযায়ী, মৌসুমের শেষ ম্যাচের পর শিরোপা তুলে দেওয়ার কথা ছিল। পিএসজির শেষ ম্যাচটি ছিল নগর প্রতিদ্বন্দ্বী প্যারিস এফসির বিপক্ষে। সবকিছু মিলিয়ে পিএসজি সমর্থকরা নিজেদের শহরেই উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কিন্তু বাদ সাধল প্যারিস এফসি। চোখের সামনে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীকে শিরোপা তুলে নিতে দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। একসময় পিএসজি ও প্যারিস এফসি একই দল ছিল। নাম নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে দুটি দলে ভাগ হয়ে যায় তারা। এরপর থেকেই দুটি দল চিরশত্রু। তাই প্যারিস এফসি সাফ জানিয়ে দেয়, ম্যাচের পর বড় করে শিরোপা উদযাপনের কোনো আয়োজন করা যাবে না।
পুলিশের বাধা ও ফ্রেঞ্চ লিগের পরামর্শ
পিএসজি তখন নিজেদের মাঠে উদযাপনের অনুমতি চায়। কিন্তু প্যারিস পুলিশ বাধা দেয়। তাদের যুক্তি, এক মাঠ থেকে অন্য মাঠে আসা-যাওয়া ও অতিরিক্ত পুলিশি ডিউটির ঝক্কি তারা নিতে রাজি নয়। রাত ১২টার পর কাজ করতে তাদের আপত্তি ছিল।
অগত্যা ফ্রেঞ্চ লিগের পরামর্শে পিএসজি ম্যাচের আগেই শিরোপা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। মাঠের অ্যাওয়ে প্রান্তে ছোট্ট একটি 'চ্যাম্পিয়ন' প্ল্যাকার্ডের সামনে শিরোপা হাতে নেয় তারা। এই অপ্রত্যাশিত উদযাপন দেখে কোচ লুইস এনরিকেও হেসে লুটোপুটি খাচ্ছিলেন।
সমর্থকদের উপস্থিতি ও প্যারিস এফসির বাগড়া
পিএসজি সমর্থকদের আগে থেকেই জানানো হয়েছিল আধা ঘণ্টা আগে আসতে। হাজারখানেক দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। তারা দলের সঙ্গে ও শিরোপার সঙ্গে ছবিও তোলেন। তবে প্যারিস এফসি বসে ছিল না। উদযাপনের সময় তারা নিজেদের গান বাজিয়ে ও দলের একাদশ ঘোষণা করে বাগড়া দেয়।
প্যারিস এফসির স্লেজিং কাজেও লেগেছে। লিগের শেষ ম্যাচে পিএসজি হেরে যায় ২-১ গোলে। আলিমামি গোরির দুই গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে প্যারিস এফসি। ফলে পিএসজির উদযাপন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জয় নিয়েই লিগ শেষ করেছে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীরা। প্যারিস এফসির জন্য ফ্রেঞ্চ লিগের শেষ দিনটি স্মরণীয় হয়ে রইল।



