গত পাঁচ দিন ধরে দেশের ফুটবল অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছিল জার্মান কোচ থমাস ঢুলিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না। কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রকাশ করেনি। এমনকি বাফুফে ভবনের সামনে বিক্ষোভও হয়েছিল যেন তাকে নেওয়া না হয়। বাফুফের কর্মকর্তারা বলছিলেন, সভাপতি তাবিথ সাহেবই সিদ্ধান্ত নেবেন। শেষ পর্যন্ত সেই থমাস ঢুলিকেই নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল সকালে তিনি ঢাকায় এসেছেন, বেশ চুপিসারে। বাফুফে কোচ আসার কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তাও দেয়নি। দেশের জাতীয় দলের কোচ নিয়োগের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। কেন এত লুকোচুরি, তা বোঝা যায়নি। বাফুফের এখানে দুর্বলতার কিছু থাকার কথা নয়।
আনুষ্ঠানিকতা এড়ানোর কারণ
একটি দেশের কোচ আসলে সবাইকে ঘটা করে জানানো যায়, সংবাদ সম্মেলন করে দেশের মানুষকে জানানো উচিত। কিন্তু বাফুফে তা করেনি। শুধু প্রেস রিলিজ দিয়ে জানানো হয়েছে যে থমাস ঢুলি বাংলাদেশের কোচ নিযুক্ত হয়েছেন। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ডাকা হবে এবং কোচ সেখানেই কাজে নেমে যাবেন। বাফুফের সভাপতি আগেই জানিয়েছিলেন ২৪ মে নতুন কোচ নিয়ে যাত্রা শুরু হবে।
থমাস ঢুলির পরিচিতি
জার্মানিতে জন্ম নিলেও থমাস ঢুলি ফুটবল খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নেন এবং ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ছিলেন। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জার্মান কোচ ক্লিন্সম্যানের সহযোগী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে কাজ করেছেন। তরুণদের নিয়েও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
প্রথম বক্তব্য
গতকাল বিকালে বাফুফের সভাপতির সঙ্গে প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন বিএসপিএর অনুষ্ঠানে যান থমাস ঢুলি। সেখানে তিনি বক্তব্য রাখেন। তিনি জানেন বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকদের চাপ থাকে এবং তারা সফলতা চায়। তিনি বলেন, 'আমি জার্মানি থেকে এসেছি। ওখানেও ফুটবলের দারুণ ক্রেজ এবং চাপ আছে। আমার জন্য এটা কোনো ব্যাপার নয়, আমি চাপে থাকতেই পছন্দ করি। তবে বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সব সময় খেলোয়াড় ও ফেডারেশনকে বলি, আমরা যে কোনো কিছু অর্জন করতে পারি যদি সেটি বাস্তবসম্মত হয়।'
বাস্তবসম্মত লক্ষ্য
বাস্তবসম্মত লক্ষ্য কী হতে পারে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ দলকে এমন অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই যাতে খেলোয়াড়রা আরও নজরকাড়া ফুটবল খেলতে পারে।' তার কথায় বোঝা যায়, তিনি চান না খেলোয়াড়রা শুধু বলের পেছনে দৌড়াক। তিনি বলেন, 'বল তাড়া করা জিনিসটা আমি পছন্দ করি না। কারণ তখন আপনাকে শুধু দৌড়াতে হয় বল ফিরে পাওয়ার জন্য, আর অধিকাংশ সময় আপনি বল ফেরতও পান না। আমি ফুটবল পায়ে রেখে খেলতে পছন্দ করি এবং চাই আমার খেলোয়াড়রা সেটাই করুক। কারণ কোনো কিছু পেতে হলে পরিশ্রম করতে হবে।'
ফিফা র্যাংকিংয়ের লক্ষ্য
ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৮১। নতুন কোচ থমাস ঢুলি জানিয়েছেন, তিনি দলকে ১৫০-১৬০-এর মধ্যে নিয়ে যেতে চান। এটি রাতারাতি সম্ভব নয়। তিনি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমের কথা বলেন। কোচ বলেন, 'আমি এসব নিয়ে একটি বই লিখেছি—"দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস"। সেখানে চারটি মূল স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে, যার একটি হলো মানসিকতা। মানসিকতা হুট করে বদলায় না, এটি আপনার চিন্তা করার ধরন। আমাদের ফুটবল নিয়ে ভাবতে হবে এবং কী করা দরকার তা বুঝতে হবে, তাহলেই আমরা যে কোনো কিছু অর্জন করতে পারব। লক্ষ্যটি বাস্তবসম্মত হতে হবে। ১৬০-এর নিচে নামা বাস্তবসম্মত, তবে তা আগামীকাল নয়, হয়তো এক বছরের মধ্যে সম্ভব।'
বাফুফের সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক
স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরাকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন ন্যাশনাল টিমস কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন। সে কারণে তাকে কমিটি থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি পূরণ হয়েছে—কাবরেরার চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। আর সেই শাহীনকেই নতুন কোচকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে দেওয়া হয়।



