বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল জাপান। চোটের কারণে কাওরু মিতোমাকে ছাড়াই আজ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন ‘ব্লু সামুরাই’দের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। ২৬ জনের স্কোয়াড ঘোষণার পর উইঙ্গার মিতোমাকে দলে না পাওয়ার হতাশায় বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই জাপানি কোচ। মোরিয়াসুর ভাষায়, মিতোমার অনুপস্থিতিতে জাপান এক ‘বড় ভরসা’কে হারাল।
গত সপ্তাহে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ব্রাইটনের ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান মিতোমা। জাপানের মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আগে ব্রাইটন উইঙ্গারের সেরে ওঠার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই। ফলে ২৮ বছর বয়সী এই তারকাকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেই পরিকল্পনা সাজাতে হয় কোচকে। অথচ গত মার্চেই ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাপানের ১-০ গোলের জয়ের নায়ক ছিলেন মিতোমা।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও গ্রুপ
আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ‘এফ’ গ্রুপে জাপানের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। ১৪ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে জাপান।
মোরিয়াসুর আবেগঘন মুহূর্ত
টোকিওতে প্রায় ৩০০ সংবাদকর্মীর সামনে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময় বাদ পড়া খেলোয়াড়দের কথা বলতে গিয়ে মোরিয়াসুর চোখ ছলছল করে ওঠে। তবে দলে ব্যাকআপ খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁর। মোরিয়াসু বলেন, ‘যাঁরা জাপানের খেলা দেখেছেন, তাঁরা সবাই জানেন, দলে মিতোমা কত বড় এক ভরসা। তবে গত বছর আমরা যখন প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো হারালাম, তখনো কিন্তু মিতোমা দলে ছিলেন না। এটাই আমাদের দলের মূল মন্ত্র—যে–ই একাদশে আসুক না কেন, দল যেন তার সেরা পারফরম্যান্সটাই ধরে রাখতে পারে।’
মিতোমার ভূমিকা ও অন্যান্য চোট
সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে জাপানের রূপকথা লেখার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল মিতোমার। সেবার শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। মিতোমার ছিটকে যাওয়া নিয়ে মোরিয়াসু বলেন, ‘অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে এই ধাক্কা তাকে বেশি পোড়াবে। আমি আশা করি, এই মানসিক কষ্ট কাটিয়ে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং চেনা ছন্দে মাঠে ফিরবে।’
মিতোমা ছাড়াও চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন মোনাকো ফরোয়ার্ড তাকুমি নামামিনো। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে বাঁ হাঁটুর এসিএল (অ্যান্টেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ছিঁড়ে যাওয়ায় মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েন।
দলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
চোটে ২০২৪ সালের জুনের পর জাপানের হয়ে কোনো ম্যাচ না খেললেও আয়াক্স ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসুকে দলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দলে আছেন ক্রিস্টাল প্যালেসের দাইচি কামাদা, লিভারপুলের ওয়াতারু এনদো এবং রিয়াল সোসিয়েদাদের তাকেফুসা কুবো।
গত মার্চে গ্লাসগোতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষিক্ত ভলফসবুর্গের কেন্টো শিওগাই ডাক পেয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। এ ছাড়া ৩৯ বছর বয়সে নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইউতো নাগাতোমো।
মোরিয়াসুর লক্ষ্য অটুট
মিতোমার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য থেকে সরছেন না মোরিয়াসু, ‘বিশ্বকাপ অবশ্যই এক বিশেষ মঞ্চ, তবে সে জন্য আমরা আমাদের কাজের ধরন বদলে ফেলব না। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বকাপ আমাদের দীর্ঘ প্রক্রিয়ারই একটি অংশ এবং আমি খেলোয়াড়দের সব সময় বলি যে প্রক্রিয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
জাপানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার: জিওন সুজুকি, কেইসুকে ওসাকো, তোমোকি হায়াকাওয়া।
ডিফেন্ডার: ইউতো নাগাতোমো, শোগো তানিগুচি, কো ইতাকুরা, সুয়োশি ওয়াতানাবে, তাকেহিরো তোমিয়াসু, হিরোকি ইতো, আয়ুমু সেকো, ইউকিনারি সুগাওয়ারা, জুন্নোসুকে সুজুকি।
মিডফিল্ডার/ফরোয়ার্ড: ওয়াতারু এনদো, জুনিয়া ইতো, দাইচি কামাদা, কোকি ওগাওয়া, দাইজেন মায়েদা, রিতসু দোয়ান, আয়াসে উয়েদা, আও তানাকা, কেইতো নাকামুরা, কাইশু সানো, তাকেফুসা কুবো, ইউইতো সুজুকি, কেন্টো শিওগাই, কেইসুকে গোতো।



