প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিবকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকারের সময়ে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক জুলুম ও সহিংসতা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির হলরুমে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সেমিনারের বিবরণ
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি আয়োজিত এই সেমিনারের শিরোনাম ছিল 'উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবনমান উন্নয়নে সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়'। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জিলানী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সদস্য ডা. কেএম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ এবং খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার কৃষক নিমাই কুমার রায়সহ অনেকে।
তিতুমীরের বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে পাঁচটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায় হলো রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কার। তিনি বলেন, 'আমরা চাই আইনের শাসন। আমাদের সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে। কারণ আগে যে পতিত সরকার ছিল, তার না ছিল বৈধতা, না ছিল আইনি কাঠামো। যার ফলে নিজে লুটপাট চালিয়ে গেছে।'
তিনি আরও বলেন, ওই সময় জনকল্যাণে কোনো কাজ হয়নি। জনকল্যাণের নামে যা করা হয়েছে, তা জনগণ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো বৈষম্যবিহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা। তিনি বলেন, 'আমরা অনুসন্ধান করেছি, ভবন নির্মাণ করে যেভাবে লুটপাট করা হয়েছে, ঠিক একই কায়দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে; কিন্তু বেকারত্বের যে অভিশাপ পতিত সরকার রেখে গেছে, তা প্রতিটি পরিবারে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।'
তিতুমীর বলেন, 'আপনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাচ্ছেন, কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অ্যাম্বুলেন্স আছে, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার নেই। যন্ত্র আছে, যন্ত্র চালানোর মেকানিক নেই। আমরা চাই বাংলাদেশে কর্মসংস্থান হোক। বাংলাদেশ সুস্বাস্থ্যের নাগরিক হোক। আমরা চাই নারীর উন্নয়ন হোক। নারীর উন্নয়ন একটি দেশের উন্নয়নের পরিমাপক।'
তিনি প্রশ্ন রাখেন, 'আপনি কি খেয়াল করেছেন পতিত সরকারের সময় নারীর প্রতি কত সহিংসতা করা হয়েছে? কত জুলুম হয়েছে? বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ জুলুম ও অত্যাচার হয়েছে, তা বর্ণনাহীন। আমরা দেখতে চাই, বাংলাদেশে সবার অধিকার আছে। কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক।'
অন্যান্য বক্তারা
কৃষক নিমাই কুমার রায় তার বক্তব্যে বলেন, বনদস্যুদের আক্রমণ, রাস্তাঘাট অনুন্নত ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন না হওয়ার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে জীবনবাজি রেখে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। তিনি টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নে সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার তাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে।



