গোল্ডেন বুট বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর একটি। বিশ্বকাপের মতো বিশাল মঞ্চে কোটি কোটি মানুষের নজর থাকে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওপর। প্রতিপক্ষে থাকে বিশ্বের সেরা দলগুলোর বাছাই করা ১১ জন। তাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সহজ নয়। পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি, রোনালদোর মতো কিংবদন্তিরাও গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। কিন্তু একজন খেলোয়াড় আছেন যিনি নকআউট পর্ব না খেলেই মাত্র দুই ম্যাচে জিতে নিয়েছিলেন এই পুরস্কার। তিনি রাশিয়ান স্ট্রাইকার ওলেগ সালেঙ্কো।
১৯৯৪ বিশ্বকাপে সালেঙ্কোর বিস্ময়কর কীর্তি
আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে, ১৯৯৪ সালে শেষবার আমেরিকায় বসেছিল বিশ্বকাপের আসর। সেবার সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল রাশিয়া। তাদের গ্রুপে ছিল ব্রাজিল, সুইডেন ও ক্যামেরুন। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হেরে রাশিয়া পড়ে যায় চাপে। দ্বিতীয় ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারলেও একমাত্র গোলটি এসেছিল পেনাল্টি থেকে, যার গোলদাতা সালেঙ্কো। দুই ম্যাচ শেষে রাশিয়ার বিদায় প্রায় নিশ্চিত। হাতে ছিল শুধু একটি ম্যাচ, প্রতিপক্ষ রজার মিলারের ক্যামেরুন।
এক ম্যাচে পাঁচ গোলের বিশ্ব রেকর্ড
দুই দলেরই পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ। বাকি ছিল শুধু নিয়ম রক্ষার লড়াই। কিন্তু সেই ম্যাচটিই হয়ে ওঠে সালেঙ্কোর জীবনের সেরা দিন। প্রথমার্ধেই তিনি হ্যাটট্রিক করেন। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারায় ক্যামেরুনের জালে আরও দুই গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে ৫ গোলের বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। রজার মিলার ক্যামেরুনের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও রাশিয়া ৬-১ ব্যবধানে জিতে যায়।
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েও গোল্ডেন বুট
এক ম্যাচে ৫ গোল ও আগের ম্যাচে ১ গোল—সব মিলিয়ে সালেঙ্কো তিন ম্যাচে করেছিলেন ৬ গোল, সময় নিয়েছিলেন মাত্র ২১৫ মিনিট। রাশিয়া গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলেও সালেঙ্কো ছিলেন গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে। বুলগেরিয়ার রিস্টো স্টইচকভও ৬ গোল করেছিলেন, কিন্তু কম সময়ে গোল করার কারণে গোল্ডেন বুট পান সালেঙ্কো। সেবারই প্রথম ও শেষবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েও গোল্ডেন বুট জেতার কীর্তি গড়েন কেউ।
বিশ্বকাপের পর ক্যারিয়ারের সমাপ্তি
মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপের পর সালেঙ্কোর ক্যারিয়ার কার্যত শেষ হয়ে যায়। বিশ্বকাপের পর তিনি মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। রাশিয়ার জার্সিতে মোট ৮ ম্যাচে ৬ গোল করেন, যার সবকটিই ১৯৯৪ বিশ্বকাপের দুই ম্যাচ থেকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সালেঙ্কো তাই ‘এক বিশ্বকাপের বিস্ময়’ হিসেবে চিহ্নিত।



