মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিং ও তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত অর্ধশতকের সুবাদে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।
মিরাজের বোলিং তাণ্ডব
বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪৩.২ ওভারে ২২৪ রানেই অলআউট হয়। বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মিরাজ ৮ ওভার বোলিং করে মাত্র ৩৪ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন। তার শিকারের তালিকায় ছিলেন কাইরেন পাওয়েল (২২), শেরফেন রাদারফোর্ড (০), রোস্টন চেজ (৪৪), জেডেন সিলস (২) ও আলজারি জোসেফ (৬)।
মিরাজের এই স্পেলটি ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের একটি। তিনি বলকে দুর্দান্তভাবে টার্ন করান এবং ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করেন। তার বোলিংয়ের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ কার্যকরী কিছুই করতে পারেনি।
হৃদয়ের অপরাজিত অর্ধশতক
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ২৫ রানের মধ্যে ওপেনার তামিম ইকবাল (৬) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৪) ফিরে গেলে চাপ বাড়ে। তবে তৃতীয় উইকেটে লিটন দাস (২২) ও তাওহীদ হৃদয় মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে কিছুটা স্বস্তি দেন। লিটন আউট হলেও হৃদয় অপরাজিত ৫৩ রান করেন। তার ইনিংসটি ছিল ৬১ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো।
হৃদয়কে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সাকিব ২৬ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪০.১ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। চতুর্থ ওয়ানডেটি হবে আগামী ২৩ জুলাই সিলেটেই। সিরিজ জিততে হলে বাংলাদেশের আর মাত্র একটি ম্যাচ জিতলেই হবে।
ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, “আমি শুধু আমার লাইন ও লেন্থ ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি। উইকেটে স্পিনারদের জন্য কিছুটা সাহায্য ছিল, সেটা কাজে লাগিয়েছি।” অন্যদিকে, সাকিব আল হাসান দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “বোলাররা দারুণ করেছে, বিশেষ করে মিরাজ। ব্যাটাররাও চাপ সামলে ভালো করেছে।”



