প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধি: বিসিবির নতুন সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের জন্য বেতন ও ম্যাচ ফি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে একটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত বুধবারের বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যেখানে 'এ' ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের বেতন সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেতন কাঠামোর বিবর্তন
২০১২ সালে প্রথমবারের মতো বিসিবি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি করে বেতন প্রদান শুরু করে। তখন তিনটি ক্যাটাগরিতে ১০০ ক্রিকেটারকে যথাক্রমে ১৫, ২০ ও ২৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হতো। সময়ের সাথে সাথে এই বেতন কয়েক দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে বেতন বাড়িয়ে ২৮, ২২ ও ১৭ হাজার টাকা করা হয়, এবং ২০২৩ সালে তা আরও বাড়িয়ে ৩৫, ৩০ ও ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ বৃদ্ধিতে 'এ' ক্যাটাগরির বেতন ৬৫ হাজার টাকা, 'বি' ক্যাটাগরির ৫০ হাজার টাকা এবং 'সি' ক্যাটাগরির ৪০ হাজার টাকা হয়েছে।
বেতন প্রদানের পদ্ধতি
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন 'এ', 'বি' ও 'সি' এই তিন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। বর্তমানে 'এ' ক্যাটাগরিতে ১৬ জন, 'বি' ক্যাটাগরিতে ১১ জন এবং 'সি' ক্যাটাগরিতে ৭৭ জন ক্রিকেটার রয়েছেন। ক্যাটাগরি নির্ধারণে ম্যাচ সংখ্যা এবং পারফরম্যান্স উভয়ই বিবেচনা করা হয়। ক্রিকেটাররা ম্যাচ খেলার জন্য ১ পয়েন্ট, ফিফটি করার জন্য ২ পয়েন্ট, সেঞ্চুরির জন্য ৪ পয়েন্ট এবং ৫ উইকেট নেওয়ার জন্য ৪ পয়েন্ট পান। ২০০ বা তার বেশি পয়েন্ট থাকলে 'এ' ক্যাটাগরি, ১০১ থেকে ১৯৯ পয়েন্টে 'বি' ক্যাটাগরি এবং ১০০ বা তার কম পয়েন্টে 'সি' ক্যাটাগরিতে স্থান পাওয়া যায়।
ইতিহাস ও উদ্দেশ্য
এই বেতন কাঠামোর সূচনা হয় সাবেক বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের সময়ে, যখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করার চিন্তা করা হয়। তৎকালীন টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান গাজী আশরাফ হোসেনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, জাতীয় দলের বাইরের খেলোয়াড়দেরও ছোট আকারে হলেও আয় নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরুতে জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছিল।
ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘদিন ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা মার্শাল আইয়ুব এই বেতন বৃদ্ধিকে 'খুবই ভালো উদ্যোগ' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সুযোগ-সুবিধা না থাকলে খেলায় সিরিয়াসনেস কমে যায়। বরিশালের ক্রিকেটার ফজলে মাহমুদ, যিনি শুরু থেকেই এই চুক্তির আওতায় রয়েছেন, বলেন যে প্রথম দিকে ছয় মাসের বেতন একসাথে দেওয়া হতো, যা বৃষ্টির মৌসুমে বিশেষভাবে সহায়ক ছিল।
অন্যান্য সুবিধা
বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের যাতায়াত ও আবাসনের মানও উন্নত হয়েছে। এখন তারা সড়কের বদলে উড়াল পথ, এসি বাস এবং ভালো হোটেলে থাকার সুবিধা পান। ম্যাচ ফিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে: ২০১২ সালে ২০ হাজার টাকা থেকে বর্তমানে তা এক লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
নারী ক্রিকেটারদের অবস্থা
নারী ক্রিকেটারদের জন্যও বিসিবি বেতন ও ম্যাচ ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই বছর আগে প্রথমবারের মতো ৩৫ জন নারী ক্রিকেটারকে চুক্তির আওতায় আনা হয়, এবং এবার তাদের বেতন ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ম্যাচ ফিও উন্নত হয়েছে: ওয়ানডের জন্য ১৫ হাজার টাকা, টি-টুয়েন্টির জন্য ১০ হাজার টাকা এবং দীর্ঘ পরিসরের খেলার জন্য ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগগুলি বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো ও খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



