খালেদ মাহমুদ সুজনের দৃঢ় বিশ্বাস: তামিম ইকবাল বিসিবিতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন মন্তব্য করেছেন যে, নতুন অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে মুখে মুখে প্রচলিত অলস প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপান্তরিত করবেন। তিনি তামিমের ক্রিকেট নিয়ে গভীর সিরিয়াস মনোভাবের প্রশংসা করে বলেছেন, এই গুণাবলী বিসিবি সভাপতি হিসেবেও বজায় থাকবে।
বিসিবিতে সুজনের প্রত্যাবর্তন ও তামিমের আহ্বান
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর, সুজন পদত্যাগ করেছিলেন। গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তামিম ইকবালকে প্রধান করে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। এই পরিবর্তনের ফলে সুজন আবারও বিসিবিতে ফিরে এসেছেন।
দীর্ঘ ২১ মাস পর মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে গিয়ে সুজন ব্যাখ্যা করেন, "আজ আমি কোনো মিটিংয়ে যাইনি। আসলে তামিম ফোন করে বলেছিল আপনি বোর্ডে আসেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন সিসিডিএমের মিটিংয়ে নাকি? ও বলল মিটিং না, আপনি আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। আপনার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "এমনিতেও ওর সাথে যোগাযোগ ছিলই। কিন্তু এই প্রথম বোর্ড ছাড়ার পর কোনো সভাপতি ফোন করে যখন ডাকছে, তখন তো আমি না করতে পারি না। এজন্যই যাওয়া। মূলত, তামিমের সঙ্গে দেখা করতে গেছি।"
ক্রিকেটারদের সমাবেশ ও সুজনের প্রত্যাশা
সুজন উল্লেখ করেন যে, সেখানে অন্যান্য ক্রিকেটারদের উপস্থিতি ছিল, যাদের মধ্যে শাহরিয়ার নাফিস, মিঠুন, রাজ, মুকুল, রাহুল, নান্নু ভাই এবং আরও অনেকে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, "ক্রিকেট নিয়েই কথা হচ্ছিল। দিন শেষে যখন আমরা ক্রিকেটাররা বসি, তখন ক্রিকেট নিয়েই কথা হয়।"
তামিম ইকবালের প্রতি তার আস্থা প্রকাশ করে সুজন বলেন, "যেহেতু তামিম অনেক বেশি রোমাঞ্চিত, অবশ্যই ও ভালো কিছু করতে চায়। আমি বিশ্বাস করি আমরা একজন ভালো সভাপতি পাব। সত্যি কথা যে কাজগুলো আমরা এতদিন মুখে মুখে বলেছি কিন্তু করি নাই। তামিম সেগুলো করে দেখাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।" তিনি তামিমের ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট নিয়ে সিরিয়াস মনোভাবের কথা স্মরণ করে যোগ করেন, "ও ক্রিকেট নিয়ে যতটা সিরিয়াস ছিল, অনুশীলন নিয়ে যতটা সিরিয়াস ছিল আমার মনে হয় ওই স্পিরিটটা এখানেও (বিসিবি সভাপতি হিসেবে) বজায় রাখছে। ও খুবই সিরিয়াস।"
এই মন্তব্যগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে, যেখানে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবি নতুন দিকনির্দেশনা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



