চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনা ও লিভারপুলের বড় ধাক্কা
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আত্মবিশ্বাসী হয়েই মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আগের ৯ ম্যাচে তাদের ৮ জয় ও ১ ড্র ছিল, যা দলটিকে উচ্চ আশার জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল। এর আগের ম্যাচেই লা লিগায় অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ওঠার পথে বড় এক ধাক্কা খেলো বার্সা। সেই অ্যাতলেতিকো-ই কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে তাদের ২-০ গোলে হারিয়ে এগিয়ে দিয়েছে, তাও আবার ১০ জনের বার্সেলোনাকে! এই জয়ে ন্যু ক্যাম্পে ২০০৬ সালের পর প্রথমবার জয়ের দেখা পেয়েছে অ্যাতলেতিকো, যা ম্যাচটিকে আরও ঐতিহাসিক করে তুলেছে।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় লাল কার্ড ও ফ্রি-কিক
ম্যাচের বেশিরভাগ সময় বার্সেলোনা আধিপত্য দেখালেও বিরতির ঠিক আগে একটি ফাউল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাউ কুবার্সির ট্যাকলে এককভাবে এগিয়ে যাওয়া জুলিয়ানো সিমিওনে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শুরুতে রেফারি ইস্তভান কোভাকস হলুদ কার্ড দেখান। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেন তিনি, যা বার্সেলোনার জন্য একটি বড় বিপর্যয় হয়ে দাঁড়ায়। এরপরই বার্সার দুর্দশা আরও বাড়ান আলভারেজ, ৪৫ মিনিটে নিখুঁত ফ্রি-কিকে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
১০ জনে নেমেও লড়াই চালায় বার্সেলোনা
১০ জনে নেমেও বার্সেলোনা লড়াই চালিয়ে যায়, দ্বিতীয়ার্ধে তারা দাপট দেখিয়ে সমতায় ফেরার খুব কাছেও পৌঁছে যায়। দুর্ভাগ্যবশত মার্কাস র্যাশফোর্ডের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, কিন্তু তখন আরেকটি ধাক্কায় আরও পিছিয়ে পড়ে তারা। ৭০ মিনিটে মাত্তেও রুগেরির নিচু ক্রস থেকে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সোরলোথ, যা বার্সেলোনার জন্য ম্যাচটিকে প্রায় অসম্ভব করে তোলে।
এই ম্যাচেও সুযোগের অভাব ছিল না, বার্সা মোট ২৪টি শট নেয়। র্যাশফোর্ডের একাধিক চেষ্টা রুখে দেন গোলরক্ষক, তার ওপর লামিনে ইয়ামাল অফসাইড হওয়ায় একটি গোল বাতিলও হয়। এই হারে আগামী মঙ্গলবার মাদ্রিদে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় লেগে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বার্সেলোনা, যেখানে তাদের জয়ের জন্য বড় ধরনের পারফরম্যান্স দরকার হবে।
লিভারপুলও একই ব্যবধানে পিছিয়ে
অন্যদিকে একই ব্যবধানে হেরে পিছিয়ে পড়েছে লিভারপুলও। পিএসজির কাছে ২-০ গোলে হেরে মৌসুমের ১৬তম হারে টুর্নামেন্টে নড়বড়ে পরিস্থিতিতে পড়ে গেছে তারা, এই পরাজয় তাদের কঠিন চাপে ফেলেছে। ১১ মিনিটে ডিজিরে দুয়ের দিক পরিবর্তিত শট গোলরক্ষক জর্জি মামারদাশভিলির মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় পিএসজি, এরপর খিচা কাভারাস্কেইয়া ৬৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। পুরো ম্যাচে লক্ষ্য বরাবর কোনো শটই নিতে পারেনি লিভারপুল, ফলে অ্যানফিল্ডে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে টিকে থাকতে হলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে অলরেডদের।
এই পরাজয়গুলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে উভয় দলের জন্য বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে, যেখানে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।



