বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগ স্বপ্নে বড় ধাক্কা, কোচ ফ্লিকের অভিযোগ রেফারি ও ভিএআর নিয়ে
চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে গতকাল রাতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বার্সেলোনা। লম্বা সময় ধরে ইউরোপিয়ান ট্রফি থেকে বঞ্চিত থাকা বার্সেলোনার শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্নে এই হার একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখন সেমিফাইনালে উঠতে আতলেতিকোর মাঠে ফিরতি লেগে বার্সেলোনাকে অন্তত ৩ গোল করতে হবে এবং কোনো গোল হজম করা যাবে না। এই কাজটি অসম্ভব না হলেও নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
কোচ ফ্লিকের রেফারি ও ভিএআর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ
বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকের মতে, তাদের কাজটা কঠিন করে তোলার দায় প্রথম লেগে মাঠের রেফারির উপর বর্তায়। বিশেষ করে ম্যাচে একটি অদ্ভুত হ্যান্ডবলের ঘটনায় ভিএআর পর্যালোচনা না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে, যখন হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত গোলে বার্সেলোনা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল এবং ৪৪ মিনিটে পাউ কুবারসি লাল কার্ড দেখার পর ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখন গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর বাড়ানো একটি বল নিজে কিক নেওয়ার জন্য হাত দিয়ে থামান আতলেতিকোর ডিফেন্ডার মার্ক পুবিল। ফ্লিকের মতে, এটি একটি স্পষ্ট হ্যান্ডবল ছিল এবং এর জন্য পেনাল্টি ও লাল কার্ড—দুটিই প্রাপ্য ছিল।
পাশাপাশি, প্রথমার্ধে ভিএআর হস্তক্ষেপে রেফারি ইস্তভান কোভাচকে কুবারসির হলুদ কার্ড দেখার ঘটনাটি পুনরায় যাচাই করতে হয়। বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার গোল করতে এগিয়ে যাওয়া আতলেতিকোর জুলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করায় প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। পরে ভিএআর রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলে কুবারসিকে লাল কার্ড দেখানো হয়, ফলে দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বার্সেলোনাকে। বার্সেলোনা ভিএআরের সহায়তা না পাওয়াতেই মূলত খেপেছেন ফ্লিক। ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক বলেন, ‘আজ (গতকাল রাতে) ভিএআর যেন আতলেতিকোর পক্ষেই খুব মনোযোগী ছিল। ভিএআরের দায়িত্বে ছিলেন একজন জার্মান, তাই জার্মানিকে ধন্যবাদ।’ জার্মানি জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ পুবিলের হাত দিয়ে বল থামানো নিয়েও বলেন, ‘আমার কাছে এটা একেবারেই স্পষ্ট লাল কার্ড।’
ফ্লিকের দৃষ্টিতে ভিএআরের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাস্টন ভিলার ডিফেন্ডার টাইরোন মিংস ক্লাব ব্রুগার বিপক্ষে একই ধরনের অপরাধে শাস্তি পেয়েছিলেন। ফ্লিকের মতে, এই ঘটনায় ভিএআরের উচিত ছিল রেফারি ইস্তভান কোভাচকে ডেকে এনে পুনরায় দেখতে বলা। ফ্লিকের ভাষায়, ‘আমার দৃষ্টিতে বিষয়টি একেবারে পরিষ্কার। (ভিএআরের) উচিত ছিল রেফারিকে ডেকে বলা, এটা দেখুন। আগেরটার মতোই। আমি বিষয়টা বুঝতে পারছি না। আমি রেফারির সঙ্গে কথা বলিনি। আমার মনে হয়েছে, কথা না বলাই ভালো।’
তবে যা হয়ে গেছে, তা মেনে নিয়ে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে চান ফ্লিক। তিনি বলেন, ‘আমাদের এটা মেনে নিতে হবে। আর আগামী মঙ্গলবার আতলেতিকোর মাঠে ম্যাচটার দিকে মন দিতে হবে। আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় আছে, যারা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। আমাদের লড়াই করতে হবে।’
খেলোয়াড় ও কোচদের মন্তব্য
বার্সেলোনার ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরাউহো বলেন, হ্যান্ডবলের ঘটনাটি ‘অদ্ভুত হলেও স্পষ্ট পেনাল্টি ছিল’। তবে আতলেতিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনে মনে করেন, ম্যাচ কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ না করে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মার্ক (পুবিল) খেলা শুরু করতে পাসটি নিয়েছে, সে যদি ঘটনাটিকে এভাবেই ব্যাখ্যা করে থাকে এবং রেফারিও যদি একইভাবে দেখেন, তাহলে বোঝাই যায়, এ সিদ্ধান্তে সাধারণ বুদ্ধিমত্তাই কাজ করেছে।’
এই হার বার্সেলোনার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, এবং ফিরতি লেগে তাদেরকে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে হবে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য।



