সেনেগালের বিরুদ্ধে ডোপিং টেস্ট এড়ানোর অভিযোগ, আফ্রিকান কাপ ফাইনালে নতুন বিতর্ক
সেনেগালের ডোপিং টেস্ট এড়ানোর অভিযোগ, আফ্রিকান কাপে বিতর্ক

সেনেগালের বিরুদ্ধে ডোপিং টেস্ট এড়ানোর অভিযোগ, আফ্রিকান কাপ ফাইনালে নতুন বিতর্ক

আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে বিতর্কের যেন শেষ নেই। সেনেগাল ও মরক্কোর মধ্যে গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ সেই ফাইনালের পর এবার নতুন করে সেনেগালের বিরুদ্ধে ডোপিং টেস্ট এড়িয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ মরক্কোর সাংবাদিক ইউসেফ আল-তামসামানি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, যা পুরো ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ফাইনাল ম্যাচের পটভূমি ও শিরোপা বাতিল

গত জানুয়ারিতে আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে সেনেগাল অতিরিক্ত সময়ে একটি গোল করে ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। তবে ম্যাচের আগে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সেনেগাল দল মাঠ ছেড়ে চলে যায়। পরে মরক্কোর অভিযোগের ভিত্তিতে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) ঘটনাটিকে ‘ম্যাচ বর্জন’ হিসেবে বিবেচনা করে সেনেগালের শিরোপা বাতিল করে দেয়। একই সঙ্গে মরক্কোকে ৩-০ ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করে তাদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও সেনেগাল এই রায়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে আপিল করেছে, যার ফল এখনো জানা যায়নি।

ডোপিং টেস্ট এড়ানোর অভিযোগের বিস্তারিত

মরক্কোর সাংবাদিক ইউসেফ আল-তামসামানি তার ইনস্টাগ্রাম ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন যে, ফাইনাল ম্যাচের পর সেনেগালের খেলোয়াড়রা ডোপিং পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) এই বিষয়ে কী ভূমিকা রাখছে। তার মতে, পুরস্কার বিতরণের মাত্র ৩৫ মিনিট পরই সেনেগালের দল রাবাতের প্রিন্স মৌলাই আব্দেল্লাহ স্টেডিয়াম ত্যাগ করে, যা ডোপিং টেস্ট সম্পন্ন করার জন্য যথেষ্ট সময় নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আল-তামসামানি আরও জানান, এই বিষয়ে তার ব্রাসেলসভিত্তিক একটি সূত্র সিএএফ ও ওয়াডার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ডোপিং পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ বাড়ছে এবং সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার তথ্যও তার কাছে রয়েছে।

ডোপিং টেস্টের নিয়মাবলি ও গুরুত্ব

উল্লেখ্য, বড় কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের পর ডোপিং পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচিত হয়। সিএএফ ও ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে প্রতিটি দল থেকে অন্তত দুজন খেলোয়াড়কে নমুনা দিতে হয়। সাধারণত লটারির মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করা হলেও প্রয়োজনে নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কেও ডাকা হতে পারে। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচিত খেলোয়াড়দের ডোপিং কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত হতে হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

এই নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ সেনেগালের বিরুদ্ধে উঠায়, আফ্রিকান কাপের ফাইনালের বিতর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ফুটবল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে, যাতে সত্যতা নিরূপণ করা যায় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।