বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম তদন্ত প্রতিবেদন আইসিসিকে জানাবে সরকার
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)কে জানানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ বিকেলে বিকেএসপি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আইসিসিকে তদন্ত রিপোর্টটি অবগত করার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও সরকারি প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ, তথ্য–প্রমাণ ও সাক্ষাৎকারসহ এক হাজারের বেশি পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটি মোট ছয়টি বই আকারে আজ দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) জমা দিয়েছে কমিটি। এরপর বিকেলে বিকেএসপিতে পরিদর্শনে গিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আন্তমন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক ডেকেছিলাম। সেখানে আলাপ–আলোচনা করেছি (প্রতিবেদন নিয়ে)। আমরা আইসিসির সঙ্গে কথা বলে আপনাদের সিদ্ধান্ত জানাব।’
অভিযোগের পটভূমি ও আসিফ মাহমুদের অবস্থান
গত বছরের ৭ অক্টোবর বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর মনোনয়ন ও ক্লাব ক্যাটাগরির নির্বাচনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় একটি পক্ষ। তাদের অভিযোগ ছিল—সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধেও। তদন্ত কমিটি তাঁকে ডাকলেও তাতে সাড়া দেননি আসিফ মাহমুদ। তিনি পরে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং বিসিবির স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘনের মতো ‘এখতিয়ার–বহির্ভূত’ কাজে অংশ না নিতেই সাক্ষাৎকারের নোটিশে সাড়া দেননি তিনি।
আসিফ মাহমুদের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি না হওয়া প্রসঙ্গে আমিনুল বলেন, ‘ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের কাছে জমা হয়েছে। তিনি অংশগ্রহণ করেননি, নিশ্চয়ই তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে তা রয়েছে। আমরা সেটি যাচাই–বাছাই করেছি, তিনি উপস্থিত হননি।’
বিসিবি পরিচালকদের পদত্যাগ ও আমিনুল হকের জবাব
এ পর্যন্ত বিসিবির ২৫ পরিচালকের ৭ জনই পদত্যাগ করেছেন। আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, পরবর্তী বোর্ডে রাখার লোভ দেখিয়ে এবং তাতে কাজ না হলে ভয় দেখিয়ে পরিচালকদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করছেন আমিনুল। এই অভিযোগের জবাবে আমিনুল বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না এটি সম্পর্কে। ফেসবুকে সত্য কথাও দেখি, মিথ্যা কথাও দেখি। তিনি সত্য বলেছেন কি মিথ্যা, এটা আপনাদের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আপনারা এটা যাচাই করে নেন।’
তদন্ত কমিটির প্রধান বিচারপতির বক্তব্য
এর আগে দুপুরে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিটির প্রধান সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র সংশোধন ও ভবিষ্যতে বিসিবি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। তিনি শুধু এটাই নিশ্চিত করেছেন যে, তদন্ত প্রতিবেদনে সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার ও আইসিসির মধ্যে আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে বিসিবির নির্বাচনী প্রক্রিয়া কতটা সংস্কার হবে।



