২০২৬ বিশ্বকাপ টিকিটের দাম নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে হতাশা
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের টিকিটের প্রথম দফার উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হয়েছে, যেখানে ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (প্রায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা) নির্ধারণ করেছে ফিফা। এই দাম ফুটবল ইতিহাসে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের জন্য সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে, যা আয়োজক দেশগুলোর পূর্ব ঘোষণার চেয়ে অনেক বেশি।
টিকিটের দাম বৃদ্ধির চিত্র
গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অফিশিয়াল সমর্থকগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য টিকিট ছাড়া হলে সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার (প্রায় ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা)। কিন্তু গত বুধবার সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট বিক্রি শুরু হলে সেই দাম আরও বেড়ে যায়। তুলনামূলকভাবে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে গ্যালারির সেরা আসনের টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৬০৪ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা)।
ফিফা কখনোই টিকিটের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা প্রকাশ করেনি, বরং ডায়নামিক প্রাইজিং পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যেখানে টিকিটের চাহিদা অনুযায়ী সময়ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়। এই পদ্ধতির কারণে টিকিটের প্রকৃত মূল্যকাঠামো বোঝা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
দামের বিশদ বিবরণ
বর্তমানে উন্মুক্ত বিক্রিতে ফাইনালের টিকিটের দাম গত ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দামের হালনাগাদ তথ্য নিম্নরূপ:
- প্রথম ক্যাটাগরি: টিকিটের দাম ১০ হাজার ৯৯০ ডলার।
- দ্বিতীয় ক্যাটাগরি: দাম ৫ হাজার ৫৭৫ ডলার থেকে ৩২.৭৮% বেড়ে ৭ হাজার ৩৮০ ডলার (প্রায় ৯ লাখ টাকা) হয়েছে।
- তৃতীয় ক্যাটাগরি: দাম ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে ৩৮.২৩% বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার (প্রায় ৭ লাখ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।
শীর্ষ দলগুলোর ম্যাচ এবং নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর টিকিটের দাম বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রুপ পর্বের মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৮৫ ডলার দেখা গেছে, যদিও স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার তুলনায় এই টিকিটের সংখ্যা খুবই সীমিত।
পুনর্বিক্রয় বাজারে চড়া দাম
ফিফার অফিশিয়াল পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম আরও আকাশছোঁয়া। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন বিক্রেতা ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের জন্য ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার (প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) দাবি করেছেন। এমনকি সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামও ২৭ হাজার ডলার (প্রায় ৩৩ লাখ টাকা) ধরা হয়েছে।
ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে মাত্র ৬০ ডলারের একটি টিকিট ১ হাজার ৪৯৯ ডলারে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ফিফা এই প্ল্যাটফর্মে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষ থেকেই ১৫% ফি কেটে রাখে।
টিকিট কেনার প্রক্রিয়ায় জটিলতা
টিকিট বিক্রির শুরুতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের সম্মুখীন হতে হয়েছে সমর্থকদের। ভার্চুয়াল লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই কারিগরি সমস্যায় পড়েন, এবং ভুল করে পিএমএ টিকিট দেওয়ার ঘটনায় আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।
গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩৫টির টিকিট প্রাথমিকভাবে দেখানো হয়েছিল, এবং ইংল্যান্ড বা স্কটল্যান্ডের মতো শীর্ষ দলের ম্যাচের টিকিট তখন অবরুদ্ধ ছিল। ফিফা ইঙ্গিত দিয়েছে যে কিক-অফের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় নতুন টিকিট ছাড়া হতে পারে।
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা টমাস কনক্যানন এই প্রক্রিয়াকে বড় রহস্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ফিফার টিকিট বিক্রির ইতিহাসে এটি আরেকটি বড় কলঙ্ক। উচ্চমূল্যের কারণে অনেক সমর্থক বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
টিকিটের কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্যতালিকা না থাকা এবং বিক্রির আগে পর্যাপ্ত তথ্য না দেওয়ায় ফুটবলপ্রেমীরা পরিকল্পনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সহকারীদের জন্য এবার কোনো বিনামূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়নি, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, এবং টিকিটের দাম নিয়ে এই বিতর্ক টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।



