ব্রায়ান ক্রিস্তান্তের জীবনের নির্মম টার্নিং পয়েন্ট
ইতালির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে টাইব্রেকারে ইতালির তৃতীয় শট নিতে যখন গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন চারপাশে গ্যালারিভর্তি উত্তাল সমর্থকের বেশির ভাগই বসনিয়ান। মাথায় পাহাড়সম চাপ নিয়ে তিনি নিশ্চয়ই ভাবেননি, এই মুহূর্তটি তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে দাঁড়াবে। ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানের হারে ইতালির বিশ্বকাপের টিকিট কাটা হয়নি, যা মানে টানা তিনটি বিশ্বকাপে আজ্জুরিদের অনুপস্থিতি।
ইতালি বনাম কানাডা: একটি ভাগ্যনির্ধারণী সিদ্ধান্ত
ক্রিস্তান্তের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল—ইতালি নাকি কানাডার হয়ে খেলবেন? বাবার সুবাদে কানাডিয়ান পাসপোর্ট থাকলেও, ইতালিয়ান ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও এসি মিলান ও এএস রোমায় ক্যারিয়ার গড়ার কারণে তিনি ইতালিকেই বেছে নেন। ২০১৭ সালে ইতালি দলে অভিষেকের পর থেকে তিনি ৪৭টি ম্যাচ খেলেছেন, কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছানো আজও অধরা রয়ে গেছে।
টাইব্রেকারের সেই মুহূর্ত: স্বপ্নভঙ্গের দৃশ্য
টাইব্রেকারে ক্রিস্তান্তের মুখে চাপের ছাপ স্পষ্ট ছিল। তিনি বল মারলেন ক্রসবারে, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায়। এই মিস করা শটই ইতালির বিশ্বকাপ স্বপ্নকে সমাধিস্থ করে দিল। বসনিয়া পরের শটে সফল হয়ে বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হলো, আর ক্রিস্তান্তে পেছনে পড়ে রইলেন অসহায় ভাবে। এই মুহূর্তটি তাঁর জীবনের দীর্ঘতম যাত্রাগুলোর একটি বলে মনে হয়, যেখানে আর কিছু করার নেই শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা।
কানাডার সুযোগ: একটি বিকল্প ইতিহাস
ক্রিস্তান্তে যদি কানাডা কোচ অক্টাভিও জামব্রানোর ডাকে সাড়া দিতেন, তাহলে ২০২২ বিশ্বকাপে খেলতে পারতেন এবং আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্বাগতিক দলের সদস্য হতেন। কানাডা গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়লেও, অন্তত দুটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ হতো তাঁর। কিন্তু ইতালির জার্সির প্রতি আকর্ষণ ও বিশ্বাস তাঁকে অন্য পথে নিয়ে যায়, যা আজ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ: অনিশ্চয়তা ও প্রতিফলন
পরবর্তী বিশ্বকাপ আসতে আসতে ক্রিস্তান্তের বয়স হবে ৩৫ বছর। ইতালি দলে তখন তাঁর জায়গা থাকবে কিনা, তা এখনই অনুমান করা কঠিন। ফুটবল কখনো কখনো খুবই নির্মম হতে পারে—ক্রিস্তান্তে তাঁর ইতালি-প্রেমের প্রতিদান হিসেবে পেলেন শুধু হতাশা ও অসমাপ্ত স্বপ্ন। টাইব্রেকারে ক্রসবারই হয়ে দাঁড়াল তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা।
এখন ক্রিস্তান্তেকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, ইতালির জার্সিতে সেই মুহূর্তটাও কি তিনি উপভোগ করেছেন? উত্তরে তিনি হয়তো শুধু আকাশের দিকে তাকাবেন, কারণ ভাগ্যে না থাকলে কী-ই বা করার আছে! আরও মর্মান্তিক ব্যাপার হলো, ইতালিকে হারিয়ে বসনিয়া এখন কানাডার বিপক্ষে খেলার অপেক্ষায়, অথচ ক্রিস্তান্তে বাবা ও মায়ের দেশের ম্যাচে অংশ নিতে পারতেন। ফুটবল আসলেই খুব নির্মম, এটি খেলোয়াড়ের স্বপ্নকে খুন করিয়ে অসহায় করে তোলে।



