মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় আইপিএল চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৯তম আসর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে। প্রায় তিন মাস পর এই ঘটনা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন আইপিএলের চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মোস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন।
ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া
সূত্রমতে, ভারতের উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নির্দেশ দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। এই সিদ্ধান্তের জেরে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করা হয় এবং ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে পাকিস্তানও এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়লে বিশ্বকাপ নিয়ে একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এই পুরো ঘটনা পরিক্রমায় আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল কোনো মন্তব্য করেননি, তবে এখন তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।
নিলামে মোস্তাফিজের উচ্চ মূল্য ও চাহিদা
মোস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর নিলাম থেকে কিনেছিল ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে, যা ছিল তার দুই কোটি রুপির ভিত্তিমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এই বাঁহাতি পেসারকে নিয়ে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে কাড়াকাড়ি হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। এমন চাহিদাসম্পন্ন একজন খেলোয়াড়কে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ধুমালকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে বিষয়গুলো যেভাবে ঘটে বা সামনে আসে, সেটাকে আমি দুর্ভাগ্যজনক বলব। আমার মনে হয় না যে দৈনন্দিন ক্রিকেট পরিচালনায় সরকারের কোনো আগ্রহ বা কোনো ভূমিকা রয়েছে। সরকার বড় পরিসরে ক্রিকেটের প্রতি সহায়ক ভূমিকাই পালন করে।’
আইপিএলে রাজনীতির প্রভাব ও ভবিষ্যত আশা
আইপিএলকে আদৌ রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএল খেলতে না পারা এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ টানা হয়। ধুমাল জবাবে বলেন, ‘তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে আমাদের চারপাশে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায় যার প্রেক্ষিতে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি নিশ্চিত সুবুদ্ধির উদয় হবে এবং ভবিষ্যতে এমনটা আর ঘটবে না।’ তাকে সরাসরি মোস্তাফিজ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিসিসিআই সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছে কি না তা তিনি জানেন না, তবে ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক ছিল।
বিসিসিআইয়ের ভূমিকা ও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য
মোস্তাফিজকে বাদ দিতে বলা হয়েছে—বিসিসিআইয়ের দিক থেকে সে সময় এই বক্তব্যটি দেন বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। পরে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, বোর্ডের বেশির ভাগ মানুষই সিদ্ধান্তটি সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন না, যা অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আইপিএলের ভবিষ্যত নীতিগত দিকগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



