ফারহানের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে পিএসএলে মুলতানের জয়, রেকর্ড ভাঙলেন কোহলি-রুশো
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দারুণ ফর্মে রয়েছেন পাকিস্তানি ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি এখন উপভোগ্য সময় পার করছেন, যা তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে স্পষ্ট। লিগে প্রথম ম্যাচে দ্রুত আউট হলেও, পরের ম্যাচেই তিনি স্বরূপে ফিরে এসেছেন। একটি বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি ভেঙেছেন বিরাট কোহলি ও রাইলি রুশোর রেকর্ড, পাশাপাশি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বদেশি বাবর আজমের জন্য।
ম্যাচের বিস্তারিত: ফারহানের নেতৃত্বে মুলতানের জয়
পিএসএলে বুধবার (১ এপ্রিল) মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদ কিংসমেন ৫ উইকেটে ২২৫ রান তোলে। তাদের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন মাজ সাদাকাত, যিনি ২৬ বলে ৫টি করে চার ও ছক্কায় ৬২ রান করেন। সারজিল খানও ২৬ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৫১ রানের অবদান রাখেন।
সেই লক্ষ্য তাড়তে নেমে মুলতান সুলতানস দাপুটে জয় পায়, ৮ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখে। হায়দরাবাদকে হারানোর পথে সাহিবজাদা ফারহান সেঞ্চুরি করেন, আর স্টিভেন স্মিথ ২০ বলে ৪৬ রান তোলেন। ম্যাচসেরা হন ফারহান, যিনি ৫৫ বলে সেঞ্চুরির পর ৫৭ বলে অপরাজিত ১০৬ রানের ইনিংসটি সাজান ৭ চার ও ৮ ছক্কায়। পিএসএলে এটিই তার প্রথম ম্যাজিক ফিগার পূর্ণ করা।
টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরি: রেকর্ডের দিকে এগিয়ে
টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন ফারহান। পাকিস্তানি ব্যাটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে কেবল বাবর আজম (১১ সেঞ্চুরি) তার চেয়ে এগিয়ে আছেন। মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন ‘ইউনিভার্স বস’খ্যাত ক্রিস গেইল, যার সেঞ্চুরি ২২টি। ১১ সেঞ্চুরি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বাবর আজম, আর ১০ সেঞ্চুরি নিয়ে তৃতীয় স্থানে ডেভিড ওয়ার্নার।
এরপর বিরাট কোহলি ও রাইলি রুশো ৯টি সেঞ্চুরি নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন, এখন তাদের পাশে বসলেন সাহিবজাদা ফারহানও। যদিও ফারহানের তুলনায় এই দুই সিনিয়র তারকা বেশি ম্যাচ খেলেছেন। ফারহান মাত্র ১৬৬ ম্যাচে নবম সেঞ্চুরি করলেন, অন্যদিকে কোহলি ৪১৫ এবং রুশো ৩৯৩ ম্যাচে গড়লেন ওই কীর্তি।
বিশ্বকাপ ফর্মের ধারাবাহিকতা পিএসএলে
ফারহানের ধারালো ব্যাটের এই পারফরম্যান্স সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দেখা গিয়েছিল। বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ার পর তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও হয়েছিলেন। বিশ্বকাপের ছয় ইনিংসে ১৬০.২৫ স্ট্রাইকরেটে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮৩ রান। পিএসএলেও তিনি সেই ফর্ম টেনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর।
ফারহানের এই উত্থান পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার অবদান দলকে এগিয়ে নিতে পারে। পিএসএলের বাকি ম্যাচগুলোতেও তার পারফরম্যান্স সবার নজর কাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



