জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানির তিক্ত পরাজয়, রাশিয়াকে দায়ী
জাতিসংঘে জার্মানির পরাজয়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে জার্মানি একটি ‘তিক্ত পরাজয়’ বরণ করেছে এবং এই পরাজয়ের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে দেশটি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল দাবি করেছেন, ইউক্রেন ও ইসরাইলের প্রতি বার্লিনের দৃঢ় সমর্থনের কারণেই প্রয়োজনীয় ভোট হারাতে হয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল

বুধবার (৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের নতুন পাঁচ সদস্য নির্বাচিত হয়। পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য দেশের গ্রুপের জন্য নির্ধারিত দুটি আসনের দৌড়ে জার্মানি পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়ার কাছে পরাজিত হয়। জার্মানি মাত্র ১০৪ ভোট পায়, অন্যদিকে পর্তুগাল ১৩৪ এবং অস্ট্রিয়া ১৩১ ভোট লাভ করে। এ ঘটনাকে ‘তিক্ত পরাজয়’ হিসেবে আখ্যা দেন ভাডেফুল।

জার্মানির অভিযোগ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইউক্রেনের প্রতি আমাদের দৃঢ় সমর্থন রয়েছে এবং রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদে এমন একটি কণ্ঠস্বর দেখতে চায় না।’ তার দাবি, জার্মানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরিতে রাশিয়া ভূমিকা রেখেছে। ‘এটি কোনো গোপন বিষয় নয়,’ বলেন তিনি। ভাডেফুল আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির বিশেষ দায়িত্ববোধও ভোট হারানোর একটি কারণ হয়ে থাকতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপত্তা পরিষদের গঠন

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশ নির্দিষ্ট মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে। নিরাপত্তা পরিষদই জাতিসংঘের একমাত্র সংস্থা, যা নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদনের মতো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জার্মানির ভুল হিসাব

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের দুই বছরের মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশটির দেরিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকেও আংশিকভাবে দায়ী করেন। তবে জার্মানির অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়া এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। নির্বাচনে কিরগিজস্তান, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং জিম্বাবুয়েও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।

চ্যান্সেলরের প্রতিক্রিয়া

এই পরাজয় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের জন্যও একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জার্মানির অবস্থান শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া মেরৎসের জন্য এটি দেশের বাইরে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে মেরৎস বলেছেন, জার্মানি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি অস্ট্রিয়া ও পর্তুগালকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এই ফলাফল জাতিসংঘে আমাদের দায়িত্বকে পরিবর্তন করে না। জার্মানি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার একটি নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হিসেবেই থাকবে।’