ইতালির বিশ্বকাপ বাদ পড়ায় দুঃখ প্রকাশ করলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি
বিশ্ব ফুটবলে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে ইতালির বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ঘটনা। গতকাল রাতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব থেকে ছিটকে পড়েছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি। এই মর্মান্তিক বিদায় শুধু ইতালিয়ান ভক্তদেরই নয়, কষ্ট দিয়েছে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও।
স্কালোনির আবেগময় প্রতিক্রিয়া
আর্জেন্টিনা বুয়েনস এইরেসে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ৫–০ গোলে জয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি ইতালির বিশ্বকাপে না খেলার বিষয়ে তাঁর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ইতালিকে আর্জেন্টিনার ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘ইতালির বিশ্বকাপে না খেলাটা দুঃখজনক। আর্জেন্টাইনরা চায় না ইতালি বিশ্বকাপের মতো আসরে না থাকুক।’
স্কালোনির সঙ্গে ইতালির গভীর সংযোগ রয়েছে। তাঁর জন্ম আর্জেন্টিনায় হলেও পূর্বপুরুষরা ইতালিয়ান ছিলেন। এছাড়া, তিনি খেলোয়াড়ি জীবনে আট বছর ইতালির সিরি আ’র ক্লাব লাৎসিও আতালান্তায় কাটিয়েছেন। এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে ইতালির বাদ পড়া তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে।
ইতালির ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি
ইতালি এবারের আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও বাছাই পর্ব উতরাতে পারেনি। বিশ্ব ফুটবলে দলটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে, যা স্কালোনি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা ফুটবল-বিশ্বের অন্যতম বড় শক্তি। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমরা চাই না যে ইতালি বিশ্বকাপের মতো আসরে না থাকুক।’
বসনিয়ার মাঠে হওয়া ম্যাচে ইতালি প্রথম গোল করে এগিয়ে থাকলেও একটি লাল কার্ডের ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয়। এরপর বসনিয়া সমতা নিয়ে আসে এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪–১ ব্যবধানে জয়ী হয়। স্কালোনি হারটির ধরনকে কঠিন ও নিষ্ঠুর বলে বর্ণনা করেছেন।
স্কালোনির ব্যক্তিগত অনুভূতি
ইতালির বাদ পড়ার বিষয়ে স্কালোনি আরও বলেন, ‘আমার দাদা-দাদি এবং পরদাদা ইতালির মানুষ ছিলেন। এটি (বিশ্বকাপ খেলতে না পারা) আমাকে দুঃখ দেয়। সেখানে আমি খেলেছি, পাশাপাশি দেশটি আর্জেন্টিনার একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, যারা আমাদের অনেক ভালোবাসে।’
তিনি উল্লেখ করেন যে ইতালির বাদ পড়ার পদ্ধতি বিশেষভাবে বেদনাদায়ক ছিল। দলটি যখন ১০ জনের হয়ে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলছিল, তখন টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে এই ঘটনা ফুটবল বিশ্বে একটি গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
ইতালির এই ট্র্যাজেডি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে রেকর্ড হয়ে থাকবে, যেখানে একটি শক্তিশালী দল বারবার বাছাই পর্বে ব্যর্থতার মুখোমুখি হচ্ছে। স্কালোনির মতো ব্যক্তিত্বদের প্রতিক্রিয়া এটি আরও বেশি মর্মস্পর্শী করে তুলেছে।



