দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে তুরস্ক ও ইরাক। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্লে-অফ ফাইনালে তুরস্ক কসোভোকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০০২ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফেরার সুযোগ পেয়েছে। একইভাবে ইরাক বলিভিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে নাম লিখিয়েছে।
তুরস্কের জয়: ২৪ বছরের অপেক্ষা শেষ
প্রিস্টিনায় অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে তুরস্কের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ফরোয়ার্ড কেরেম আকতুরকোগলু। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে করা এই গোলই দলকে জয় এনে দেয়। স্বাগতিক কসোভো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ওঠার স্বপ্ন দেখলেও শেষ পর্যন্ত তা পূরণ হয়নি।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ২৫তম স্থানে থাকা তুরস্ক গত দুই দশকে বাছাই পর্বে প্রতিবার ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এবার তাদের ওপর ছিল বাড়তি চাপ। কোচ ভিনচেঞ্জো মনতেলার অধীনে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দলটি শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সামলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য তুলে নেয়।
গ্রুপ পর্বে চ্যালেঞ্জ
বিশ্বকাপে তুরস্ক খেলবে ডি গ্রুপে। সেখানে তাদের গ্রুপসঙ্গী অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া। এই গ্রুপে প্রতিযোগিতা হবে চরম কঠিন, কিন্তু তুরস্কের দল নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরাকের ফিরে আসা: ৪০ বছর পর
অন্যদিকে, ইরাক সর্বশেষ ও ৪৮তম দল হিসেবে বিশ্বকাপে নাম লিখিয়েছে। ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে তারা আই গ্রুপে খেলবে। তাদের গ্রুপসঙ্গী ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগাল।
ইরাকের এই সাফল্য দেশটির ফুটবল ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের উপস্থিতি সীমিত ছিল, কিন্তু এবারের জয় নতুন আশা জাগিয়েছে।
প্লে-অফের গুরুত্ব
প্লে-অফ ম্যাচগুলো বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে দলগুলোর জন্য চূড়ান্ত সুযোগ থাকে। তুরস্ক ও ইরাক উভয়ই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে।
এই জয় শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, সমর্থকদের জন্যও বিশাল উৎসাহের বিষয়। উভয় দেশের ফুটবল প্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ তুরস্ক ও ইরাকের ফুটবল উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স সবার নজর কাড়বে।



