বিশ্বকাপে ইতালির ট্র্যাজেডি: বসনিয়ার কাছে হারে টানা তৃতীয়বার বাদ
জেনারো বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে অফ ফাইনালে এক নাটকীয় ম্যাচে ইতালি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে পরাজিত হয়েছে। এই পরাজয়ে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলো, যা একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে স্কোর ১-১ থাকার পর টাইব্রেকারে বসনিয়ার জয়ে বলকান দেশটি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছে।
লাল কার্ড ও টার্নিং পয়েন্ট: বাস্তোনির ভূমিকা
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ইতালির সেন্টার ব্যাক আলেসান্দ্রো বাস্তোনি লাল কার্ড দেখেন, যা ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা ইতালি প্রায় নিশ্চিত গোল বাঁচাতে বাস্তোনির ফাউলে তিনি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ধারাভাষ্যকাররা প্রশ্ন তুলেছেন, এই লাল কার্ডই কি শেষ পর্যন্ত ইতালির পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে? বাস্তোনির অনুপস্থিতিতে বসনিয়া একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে আক্রমণ চালায় এবং ৭৯ মিনিটে হারিস তাবাকোভিচের সমতাসূচক গোলটি করে।
বাস্তোনির কাছে একটি ছোট সান্ত্বনা রয়ে গেছে: ৪১ মিনিটে আমর মেমিচকে ট্যাকল না করলে বসনিয়া তখনই সমতাসূচক গোল পেতে পারত। তবে ইতালির অন্যান্য খেলোয়াড়দের জন্য এই সান্ত্বনাও নেই। পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে টাইব্রেকারে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন, যেখানে এসপোসিতোর শট পোস্টের ওপর দিয়ে যায় এবং ক্রিস্তান্তের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে।
দোন্নারুম্মার ব্যর্থতা ও ইতালিয়ান ট্র্যাজেডি
ইতালি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার উপর ভরসা রেখেছিল, যিনি ক্যারিয়ারে পেনাল্টি শুটআউটে মাত্র একটি হার মেনেছেন এবং এই ম্যাচে ছয়-সাতটি দারুণ সেভ করেছিলেন। কিন্তু টাইব্রেকারে বসনিয়ার চারটি গোল ঠেকাতে তিনি ব্যর্থ হন, যা ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির শেষ পরিচ্ছেদ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ম্যাচ শেষে দোন্নারুম্মা নিশ্চল-পাথরের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন, মাথায় হাত দিয়ে, যখন বসনিয়ার খেলোয়াড়রা উৎসবে মেতে উঠেছিলেন।
ইতালির খেলা ও পরিসংখ্যান
ইতালি মোটেও বাজে খেলেনি। ১৫ মিনিটে বসনিয়ার গোলকিপার নিকোলা ভাসিলের ভুল পাস ধরে নিকোলা বারেল্লা ময়েজ কিনকে পাস দিলে তিনি ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করে ইতালিকে এগিয়ে দেন। কিন ইতালির হয়ে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছেন। তবে বাস্তোনির লাল কার্ডের পর বসনিয়ার আক্রমণ চাপ বাড়তে থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বসনিয়া মোট ৩০টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ১১টি পোস্টে, এবং বাস্তোনি লাল কার্ড দেখার আগে এটি মাত্র ২টি ছিল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কোচের প্রতিক্রিয়া
২০১৭ সালে সুইডেনের বিপক্ষে প্লে অফে হেরে এবং ২০২২ সালে উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে হারের পর এবার বসনিয়ার কাছে হারে ইতালি টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে খেলতে পারল না। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭১তম বসনিয়ার কাছে এই হার ইতালির জন্য একটি বড় ধাক্কা। ইতালিকে এখন ২০৩০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, বসনিয়া ১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরল, যেখানে তাদের সর্বশেষ খেলা ছিল ২০১৪ সালে।
ইতালি কোচ জেনারো গাত্তুসো ভেজা চোখে বলেন, ‘এটা কষ্টের। কারণ এটা আমাদের নিজেদের জন্য, গোটা ইতালির জন্য প্রয়োজন ছিল। এই ধাক্কা হজম করা সত্যিই কঠিন।’ তাঁর চোয়াল শক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত আবেগ আটকাতে পারেননি তিনি। এই পরাজয় ইতালি ফুটবলের জন্য একটি অমোচনীয় দুঃখ বয়ে এনেছে, যেখানে অনেকেই এখন বিশ্বাস করতে কষ্ট পাচ্ছেন যে ইতালি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।



