পিএসএল শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন: নিরাপত্তা নিয়ে গুঞ্জন, পিসিবি বলছে সব ঠিক
মাঠের লড়াই শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ঠিক তার আগেই কিনা পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ! গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল—অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররা নাকি নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তানে যেতে চাইছেন না। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, এই সবই অমূলক গুঞ্জন। কোনো ‘নিরাপত্তা শঙ্কা’ নেই, পিএসএল হবে সময়মতোই।
অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়দের দোটানা: পেশোয়ার ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা
কয়েক দিন আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আর আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন পেশোয়ারে ম্যাচ থাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা খানিকটা দোটানায় আছেন। কিন্তু জিও নিউজকে পিসিবির এক ঊর্ধ্বতন সূত্র বলেছে, দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই; সব ঠিকঠাকই আছে।
২৬ মার্চ পর্দা উঠছে পিএসএলের ১১তম আসরের। এর দুই দিন পরই আইপিএলের দামামা বাজবে ভারতে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিগের এই ‘মুখোমুখি’ লড়াইয়ের মাঝে খেলোয়াড়দের না পাওয়া মানে বড় ধাক্কা। বিদেশি ক্রিকেটাররা না আসা মানে টুর্নামেন্টের জৌলুশ হারানো, ব্রডকাস্টারদের মাথায় হাত পড়া আর ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কিন্তু পিসিবি এসব গুঞ্জন পাত্তা দিচ্ছে না। সংস্থাটির সেই সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। আগামী সপ্তাহ থেকেই তাঁরা পাকিস্তানে পা রাখতে শুরু করবেন।
আইপিএল ও পিএসএল: একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
আইপিএল ও পিএসএল এবারও প্রায় একই সময়ে হতে যাচ্ছে। এক্সস্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, মার্নাস লাবুশেন, অ্যাডাম জাম্পা, জশ ফিলিপ, রাইলি মেরেডিথ ও বেন ম্যাকডারমটদের মতো অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়দের এবার পিএসএলে খেলার কথা। শঙ্কাটা মূলত পেশোয়ারের ম্যাচগুলো নিয়ে। শহরটা আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে। আর পাকিস্তান সম্প্রতি নতুন করে দেশটির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে। সীমান্তঘেঁষা শহর হওয়ায় কিছু দেশ পেশোয়ার অঞ্চলে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে।
কিন্তু পিসিবি মনে করিয়ে দিচ্ছে, অতীতে এর চেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে তারা সফলভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। এবারও নিরাপত্তাব্যবস্থা হবে কয়েক স্তরের। তা ছাড়া পেশোয়ারে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি ম্যাচ রাখা হয়েছে। এখন দেখার অপেক্ষা, পিসিবির কথায় অস্ট্রেলিয়া কিংবা পিএসএলের অন্য বিদেশি ক্রিকেটাররা কতটা আশ্বস্ত হন।
পিএসএলের এই আসরটি ক্রিকেট বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে আইপিএলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে। পিসিবির দৃঢ় অবস্থান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি টুর্নামেন্টের সফলতা নিশ্চিত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



