যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফুটবল: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন জার্মান কোচ ও ফুটবলার
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক জার্মান কোচ জোয়াকিম লো এবং সাবেক জার্মান ফুটবলার বোনহফ। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে এই মেগা ইভেন্ট বিপজ্জনক হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
জোয়াকিম লোর সতর্কতা: যুদ্ধে লিপ্ত দেশে খেলা বিপজ্জনক
আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন মাস আগেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থির হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জোয়াকিম লো বলেন, 'রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে বিতর্ক এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে বয়কটের ডাক উঠেছিল। কিন্তু যে দেশ নিজেই যুদ্ধে লিপ্ত, সেখানে খেলা আরও বেশি বিপজ্জনক। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই টুর্নামেন্টকে পুরোপুরি অন্ধকারে ঢেকে দিচ্ছে।'
মেক্সিকোর সহিংসতা ও বোনহফের মন্তব্য
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক মেক্সিকোতে গত মাসে মাদক সম্রাট 'এল মাঞ্চো'কে হত্যার ঘটনায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। মাদক কারবারিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ দেশটিতে নিয়মিত ঘটনা। সাবেক জার্মান ফুটবলার বোনহফ, যিনি বর্তমানে বুন্দেসলিগা ক্লাব বরুসিয়া মনচেনগ্লাডবাকের প্রেসিডেন্ট, তিনি বলেন, 'আমি জানি না আসলেই এই টুর্নামেন্টে খেলা উচিত কি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল কানাডা নিরপেক্ষ দেশ। আমি চাই না বিশ্বকাপের কোনো আসর বয়কট করতে—আমরা ফুটবলপ্রিয় মানুষ। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে, যা আমরা এখনও সেভাবে বিবেচনায় নিচ্ছি না।' তিনি আরও যোগ করেন, 'নিরাপত্তাজনিত কারণে আমি কাউকে মেক্সিকোয় খেলতে যেতে বলব না।'
বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
ফিফার এই মেগা ইভেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান শঙ্কা ফুটবল বিশ্বকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। জোয়াকিম লো এবং বোনহফের মন্তব্যে উঠে এসেছে যে, রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতা বিশ্বকাপের সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে। যদিও ফুটবলপ্রেমীরা টুর্নামেন্ট বয়কট চান না, তবুও খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আয়োজক দেশগুলোর স্থিতিশীলতা ফিফার জন্য অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, যাতে বিশ্বকাপ একটি নিরাপদ ও সফল ইভেন্ট হিসেবে পরিচিতি পায়।
