রানআউটের পর সালমানের রাগ: গ্লাভস ছুড়ে মারায় ডিমেরিট পয়েন্ট, মিরাজের সঙ্গে তর্ক
পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান সালমান আগা বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রানআউটের পর উত্তেজিত হয়ে গ্লাভস ও হেলমেট মাটিতে ছুড়ে মারার ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন। গতকালের ম্যাচে এ ঘটনার জন্য তাঁকে তিরস্কার ও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশীদ ‘অ্যাবিউজিং অব ক্রিকেট ইকুপমেন্ট’ অভিযোগ আরোপ করলে সালমান তা মেনে নেন, ফলে এ নিয়ে আর কোনো শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনাটি ঘটে পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। মিরাজ হোসেনের বলটি সোজাসুজি খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। রানআউট হয়ে ফিরছিলেন সালমান। প্রথম আলো পেয়ে তা থামিয়ে দেন মিরাজ। একই সময়ে সালমান ও মিরাজ দুজনই বলের দিকে হাত বাড়ালেও মিরাজই বলটি আগে তুলে নেন এবং থ্রো করে স্টাম্প ভেঙে দেন। তৃতীয় আম্পায়ার সালমানকে রানআউট ঘোষণা করেন।
রানআউটের সিদ্ধান্তে বিস্মিত সালমান সঙ্গে সঙ্গেই মিরাজের প্রতি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তৃতীয় আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই মাঠের ভেতরে হেলমেট ও গ্লাভস মাটিতে ছুড়ে মারেন তিনি। ক্ষুব্ধ হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় বাউন্ডারি সীমানা পার করে আরও একবার গ্লাভস ও হেলমেট ছুড়ে মারেন সালমান। এ সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও তাঁকে তর্কে জড়াতে দেখা যায়।
শাস্তি ও পূর্ববর্তী রেকর্ড
গত দুই বছরে মাঠে শৃঙ্খলা ভাঙার কারণে সালমানের কোনো ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়নি। তবে এবারের ঘটনায় ম্যাচ রেফারির আরোপিত শাস্তি মেনে নেওয়ায় বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। ক্রিকেট নিয়ম অনুযায়ী, এমন আচরণের জন্য খেলোয়াড়দের সাধারণত জরিমানা বা পয়েন্ট কাটার শাস্তি দেওয়া হয়ে থাকে।
ম্যাচ ও সিরিজের অবস্থা
গতকালের ম্যাচে পাকিস্তান বাংলাদেশকে ১২৮ রানের ব্যবধানে পরাজিত করে। এ জয়ের মাধ্যমে ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা উভয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সালমানের এই আচরণ ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, খেলার মাঠে শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখা প্রতিটি খেলোয়াড়ের দায়িত্ব। পাকিস্তান ক্রিকেট দল এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা সর্বদা উত্তেজনাপূর্ণ হলেও নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য।
