আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ভারতের জয় উদযাপনে বিতর্ক
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক

আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর নিরপেক্ষতা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে বিতর্ক

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত, যা দলটির টানা দ্বিতীয় শিরোপা। বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে, কিন্তু এখনো আলোচনায় আছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের দিক থেকে।

বিসিসিআই ভিডিওতে জয় শাহর বারবার উপস্থিতি

১০ মার্চ বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ভারতের শিরোপা উদযাপনের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যেখানে ৩৭ সেকেন্ডের মধ্যে জয় শাহকে ১২ বার দেখানো হয়েছে। 'দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড' পডকাস্টে সাংবাদিক অ্যাডাম কলিন্স এই ঘটনাকে 'অস্বাভাবিক' বলে উল্লেখ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, 'বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক হয়ে নিজের পুরোনো পদ বিসিসিআই সচিবের মতো আচরণ বা গ্যালারির সাধারণ দর্শকের মতো উদযাপন আইসিসি প্রধানের জন্য মানানসই নয়।' একই পডকাস্টে ক্রীড়া লেখক জিওফ লেমন যোগ করেন, 'আন্তর্জাতিক বোর্ডের প্রধান হিসেবে সাধারণ দর্শকের মতো আচরণ করা উচিত নয়, এ দুটির মধ্যে পার্থক্য থাকা প্রয়োজন।'

মন্দির সফর ও ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে বিতর্ক

জয় শাহর বিতর্কিত পদক্ষেপের আরেকটি দিক উঠে এসেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত একটি কলামে। শিরোপা জেতার পর অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে জয় শাহকে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পাশের হনুমান টেকরি মন্দিরে দেখা যায়, সূর্যকুমারের হাতে ছিল আইসিসি ট্রফি। কলামে উল্লেখ করা হয়, ভারতের দলে শিখ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও, আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রফিকে একটি নির্দিষ্ট উপাসনালয়ের সঙ্গে যুক্ত করে ধর্মীয় প্রতীককে উৎসাহিত করার অভিযোগ উঠেছে। এই সফরটি ব্যক্তিগত না হয়ে প্রকাশ্যে আসায় সমালোচনা বেড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নৈতিক দায়বদ্ধতা

জয় শাহর রাজনৈতিক পরিচয় ও উত্থান এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। ২০১৯ সালে বিসিসিআই সচিব ও ২০২৪ সালে আইসিসি চেয়ারম্যান পদে তিনি নির্বাচিত হন, উভয় ক্ষেত্রেই ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতায়। তাঁর বাবা অমিত শাহ দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি। সমালোচকরা দাবি করেন, আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনৈতিক বা সরকারি স্বার্থ প্রচার না করার নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু জয় শাহর সাম্প্রতিক আচরণে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না।

সামগ্রিকভাবে, জয় শাহর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে ক্রিকেট মহলে চলমান বিতর্ক আইসিসির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও বিশ্বাসযোগ্যতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।