অধিনায়কের রেকর্ডেও পরাজয়ের দুয়ারে দক্ষিণ আফ্রিকা
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন। তবে এই রেকর্ডের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে আম্পায়ারের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং দলের সম্ভাব্য পরাজয়ের মুখোমুখি হওয়ার কারণে।
আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে আউট মার্করাম
ম্যাচের সময়, মার্করাম একটি ক্যাচের শিকার হন যা খালি চোখেই স্পষ্ট ছিল যে বল প্রথমে মাটিতে পড়েছিল। নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডার মিচেল স্যান্টনারের হাতে বল জমা হওয়ার দৃশ্য বিতর্কের জন্ম দেয়। মার্করাম কোনো ছলচাতুরি না করে রিভিউ দেখার আমন্ত্রণ জানান, কিন্তু আম্পায়ার রিভিউ দেখেও তাকে আউটের সিদ্ধান্ত দেন। এই ভুল কলে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়েন প্রোটিয়া অধিনায়ক, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে রেকর্ড
এই ম্যাচে খেলে মার্করাম দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৭ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন। এর আগে ১৬ ম্যাচ নিয়ে শীর্ষে ছিলেন প্রোটিয়া সাবেক অধিনায়ক গ্রায়াম স্মিথ। অধিনায়ক হিসেবে ১০ ম্যাচ খেলে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন টিম্বা বাভুমা। মার্করামের এই অর্জন দলের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ছাপিয়ে গেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ও নিউজিল্যান্ডের জবাব
সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬৯ রান করে ৮ উইকেট হারায়, যা প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু চ্যালেঞ্জিং একটি স্কোর। তবে নিউজিল্যান্ডের জবাব ছিল আরও শক্তিশালী। টিম সিপার্ট ও ফিন অ্যালেনের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাত্র ৯ ওভারে ১১৭ রান করে, কোনো উইকেট না হারিয়ে।
জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের এখন মাত্র ৫৩ রান প্রয়োজন ৬৬ বল বাকি থাকতে, এবং তাদের হাতে রয়েছে সম্পূর্ণ ১০ উইকেট। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা পরাজয়ের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে, যা মার্করামের রেকর্ডকে ম্লান করে দিচ্ছে।
ম্যাচের ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, কিন্তু নিউজিল্যান্ডের দ্রুতগতির ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণকে চ্যালেঞ্জ করছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দলকে এখন অলৌকিক কিছু করতে হবে যদি তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে জয়ী হতে চায়।



