টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড জয়, জিম্বাবুয়েকে ১০৭ রানে হারালো
গ্রুপ পর্বে অপরাজিত দুই দলের মধ্যে সুপার এইট পর্বের প্রথম লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিম্বাবুয়েকে ১০৭ রানে হারিয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৪ রান করে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং বিপর্যয়
রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। পাওয়ার প্লে শেষ হতে না হতেই তিনজন ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন, এবং সপ্তম ওভারে আরও এক ব্যাটার আউট হওয়ায় রোডেশীয়রা চাপে পড়ে যায়। ব্রায়ান বেনেট ৫, মারুমানি ১৪, রায়ান বার্ল শূন্য ও ডিওন মেয়ার্স ২৮ রান করে আউট হন। পঞ্চম উইকেটে টনি মুনয়োঙ্গাকে নিয়ে সিকান্দার রাজা চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তাদের তোলা রানরেট ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
সিকান্দার রাজা ২৭ রান এবং মুনয়োঙ্গা ১৪ রান করে আউট হওয়ার পর জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে। শেষ উইকেট জুটিতে ব্র্যাড ইভান্স তার ব্যাটিং ক্যারিশমা দেখিয়ে মাত্র ২১ বলে ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৪৩ রান করেন, কিন্তু এনগারাভা ৭ রানে অপরাজিত থাকেন এবং তিনজন ব্যাটার রানের দেখা পাননি। জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে ১৪৭ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং সাফল্য
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণে গুদাকেশ মোতি সবচেয়ে সফল ছিলেন, তিনি ২৮ রানের খরচায় সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। আকেল হোসেনও তিনটি উইকেট পেয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ঝড়
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই উইকেট হারায়, যখন ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ১২ বলে ৯ রান করে আউট হন। আরেক ওপেনার সাই হোপও ১৪ রান করে ফেরেন।
এরপর শিমরন হেটমায়ার এবং রোভম্যান পাওয়েলের মধ্যে শুরু হয় চার-ছক্কার ফুলঝুরি। হেটমায়ার ইনিংসের চতুর্থ ওভারে একটি ক্যাচ মিস হওয়ার সুযোগ পেয়ে বেঁচে যান এবং এরপরই তার ব্যাটিং শো শুরু হয়। পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মাত্র ৫২ বলে ১২২ রানের জুটি গড়েন। হেটমায়ার মাত্র ১৯ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং ৩৪ বলে ৮৫ রান করে তার ইনিংস শেষ হয়, যা সাতটি করে চার ও ছয়ে সাজানো ছিল।
রোভম্যান পাওয়েলও ৩৫ বলে চারটি করে চার-ছক্কায় ৫৯ রান করে ফিফটি করেন। ইনিংসের শেষদিকে শেরফাইন রাদারফোর্ড মাত্র ১৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন, এবং রোমারিও শেফার্ড ১০ বলে ২১ রান করেন। জেসন হোল্ডার ৪ বলে ১৩ ও ম্যাথু ফোর্ডে ১ বলে ১ রান করে দলের স্কোরকে ২৫৪ রানে নিয়ে যান।
রেকর্ডের পর রেকর্ড
এই ইনিংসের মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাধিক রেকর্ড গড়ে। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্যারিবিয়ানদের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস, এবং বিশ্বকাপের এবারের আসরেও এটাই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের রেকর্ডে এই ইনিংসের অবস্থান দুই নম্বরে, যেখানে এক নম্বরে রয়েছে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার করা ২৬০ রানের ইনিংস।
