ব্র্যাড ইভান্সের ঐতিহাসিক বিশ্ব রেকর্ড: মালিঙ্গাকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টিতে টানা ২৮ ম্যাচে উইকেট
জিম্বাবুয়ের তারকা পেসার ব্র্যাড ইভান্স ক্রিকেট বিশ্বে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি শ্রীলংকার কিংবদন্তি পেসার লাসিথ মালিঙ্গাকে পেছনে ফেলে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টানা ২৮ ম্যাচে উইকেট নেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। এই অসাধারণ কীর্তি অর্জিত হয়েছে আজ সোমবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার এইট পর্বের একটি ম্যাচে।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইভান্সের বোলিং ছিল চোখে পড়ার মতো। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ ইভান্সের বলকে তুলে মারার চেষ্টা করেন। কিন্তু ডিপ মিড উইকেট অঞ্চল থেকে দৌড়ে এসে ব্রায়ান বেনেট একটি দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ ধরেন, যা ইভান্সের রেকর্ডভাঙা উইকেট নিশ্চিত করে। এই উইকেটের মাধ্যমে ইভান্স টানা ২৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন, যা পূর্বের রেকর্ডধারী মালিঙ্গার চেয়ে এক ম্যাচ বেশি।
রেকর্ড তালিকায় অন্যান্য তারকা
এই বিশ্ব রেকর্ড তালিকায় এখন ব্র্যাড ইভান্স শীর্ষস্থান দখল করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গা, যিনি টানা ২৭ ম্যাচে উইকেট নিয়েছিলেন। মালিঙ্গার এই সাফল্যের মধ্যে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি হ্যাটট্রিকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মালিঙ্গার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন আয়ারল্যান্ডের রস অ্যাডাইর, যিনি ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ২৭ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন পাকিস্তানের উসমান তারিক, যিনি টানা ২৫ ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন। তারিকের অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন ইতিমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং তিনি একটি হ্যাটট্রিকও করেছেন।
ম্যাচের অন্যান্য দিক
ইভান্সের এই রেকর্ড গড়ার দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রানের একটি চমৎকার স্কোর গড়ে। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর একটি উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ম্যাচটি ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে, যেখানে ব্যক্তিগত কীর্তি এবং দলীয় সাফল্য একসাথে দেখা গেছে।
ব্র্যাড ইভান্সের এই সাফল্য শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই নয়, বরং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্যও একটি গর্বের বিষয়। এটি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বোলিংয়ের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে। বিশ্ব ক্রিকেটে এই রেকর্ডটি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আশা করা যায়।
