বিসিএলে আকবর আলী ও আফিফ হোসেনের সেঞ্চুরিতে উত্তাল দুটি ম্যাচ
বিসিএলে আকবর আলী ও আফিফ হোসেনের সেঞ্চুরি

বিসিএল ওয়ানডের প্রথম দিনে সেঞ্চুরির উৎসব

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে ম্যাচের প্রথম দিনেই দুই সেঞ্চুরির দেখা মিলেছে। আকবর আলী ও আফিফ হোসেনের অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শনে উত্তাল হয়ে উঠেছে বগুড়া ও রাজশাহীর মাঠ। দুজনই লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন, যা দর্শকদের জন্য ছিল এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা।

বগুড়ায় আকবর আলীর ঝড়ো সেঞ্চুরি

বগুড়ার মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উত্তরাঞ্চল দল ৩৩৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। এই বড় রানের ভিত তৈরি করেছিলেন তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। তানজিদ ৪৪ বলে ৫৪ রান করে দ্রুত আউট হলেও নাজমুল ৮৭ বলে ৬৮ রান করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। তবে আসল নায়ক ছিলেন আকবর আলী, যিনি ৮৭ বলে ১১১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করেন। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৬টি ছক্কা, যা গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয়।

উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে পূর্বাঞ্চল ২৮১ রানে অলআউট হয়ে যায়, যেখানে মুমিনুল হক ৮২ বলে ৮৩ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে চেষ্টা করেছিলেন। তবে রিশাদ হোসেনের বোলিং ছিল চোখে পড়ার মতো, তিনি ১০ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন।

রাজশাহীতে আফিফ হোসেনের নাটকীয় সেঞ্চুরি

রাজশাহীতে মধ্যাঞ্চল ২৬৫ রানের লক্ষ্য দিলে দক্ষিণাঞ্চল তা ৪৫.৩ ওভারে পেরিয়ে যায়। এই জয়ের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন আফিফ হোসেন, যিনি এক নাটকীয় সেঞ্চুরি করে দলকে বিজয়ী করেন। যখন আফিফের রান ৯৫ ছিল, তখন দলের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৫ রান, আর হাতে ছিল ৩০ বল। শেষ মুহূর্তে একটি চার মেরে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, যা ম্যাচটিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে।

দক্ষিণাঞ্চল ১০৮ রানে ৩ উইকেট হারালেও আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ মিঠুনের ১৫৯ রানের জুটি দলকে ৭ উইকেটে জয় এনে দেয়। মধ্যাঞ্চলের পক্ষে মোহাম্মদ নাঈম, মাহফিজুল ইসলাম ও মাহিদুল ইসলাম ফিফটি করলেও বাকি ব্যাটসম্যানরা তেমন সুবিধা করতে না পারায় দল ৩০০ রানের ঘর ছুঁতে পারেনি।

বোলিং পারফরম্যান্স ও রেকর্ড

ম্যাচ দুটিতে বোলিং পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য ছিল। উত্তরাঞ্চলের রিশাদ হোসেন ৪ উইকেট শিকার করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলের সাইফউদ্দিন ১০ ওভারে ৯৮ রান খরচ করে একটি রেকর্ড গড়েন, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে পঞ্চম সর্বোচ্চ খরুচে বোলিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তাসকিন আহমেদের ১০৭ রান খরচের রেকর্ডই এখনো অক্ষত রয়েছে।

এই ম্যাচগুলো বিসিএল মৌসুমের শুরুতে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি দারুণ উপহার হিসেবে কাজ করেছে। আকবর আলী ও আফিফ হোসেনের সেঞ্চুরি যেমন নতুন প্রতিভার উত্থানকে নির্দেশ করে, তেমনি দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবও বাড়িয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে আরও এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচের প্রত্যাশায় রয়েছেন ক্রিকেট অনুরাগীরা।