বাবর আজমকে কেন ব্যাটিং সুযোগ দেওয়া হয়নি, কোচ হেসনের ব্যাখ্যা
বাবর আজমের ব্যাটিং সুযোগ না দেওয়ার কারণ জানালেন কোচ

বাবর আজমের ব্যাটিং সুযোগ না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন কোচ হেসন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তান দল জয়লাভ করলেও বাবর আজমকে ব্যাট করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন সংবাদমাধ্যমের সামনে তার যুক্তি তুলে ধরেছেন।

ম্যাচের পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্ত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের পর থেকে বাবর আজম চার নম্বরে ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু নামিবিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তার আগে খাজা নাফে ও শাদাব খান ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তান দল ১৯৯ রান তুলে নামিবিয়াকে ১০২ রানে গুটিয়ে দিয়ে জয় পায় এবং সুপার এইট পর্বে উত্তীর্ণ হয়।

বৃষ্টির কারণে শুক্রবারের অনুশীলন বাতিল হওয়ার পর কোচ হেসন বলেন, ‘সেদিন আমরা ১২ ওভারে পৌঁছে গিয়েছিলাম। তখন বাবর আজমকে নামানোর সিদ্ধান্তটা ভালো হতো না। আমাদের কাছে আরও অনেক বিকল্প আছে, যারা শেষ দিকে এসে সেই ভূমিকা পালন করতে পারে।’

বাবরের পারফরম্যান্স ও ভূমিকা

হেসন আরও উল্লেখ করেন যে বাবর আজম নিজেই জানেন যে বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লেতে তার স্ট্রাইক রেট ১০০-এর নিচে রয়েছে। ‘স্পষ্টভাবে এমন ভূমিকা আমাদের কাম্য নয়,’ বলেছেন তিনি। গত বছরের এশিয়া কাপেও একই কারণে বাবরকে বাইরে রাখা হয়েছিল। যদিও বিগ ব্যাশ লিগে তার পারফরম্যান্স তেমন ভালো না হলেও তাকে বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়েছে।

হেসন বলেন, ‘এশিয়া কাপের পর আমরা বাবরকে একটি নির্দিষ্ট ভূমিকার জন্য দলে ফিরিয়েছিলাম। বাবরই প্রথম স্বীকার করে যে তার কিছু নির্দিষ্ট দক্ষতা আছে, যা দলের দরকার। আবার এমন সময়ও আছে, যখন অন্য খেলোয়াড়রা সেই কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারে।’

শাহিন শাহ আফ্রিদি বাদ পড়ার প্রসঙ্গ

শাহিন শাহ আফ্রিদিকে দল থেকে বাদ দেওয়া নিয়েও কথা বলেন হেসন। তিন ম্যাচে ১০১ রান দেওয়া শাহিন ভারতের বিপক্ষে দুই ওভারে ৩১ রান দিয়েছিলেন। হেসন বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সালমান মির্জা শাহিনের জায়গায় খেলবে, এবং সে দারুণ বোলিং করেছে। সত্যি বলতে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে না খেলাটা তার জন্য দুর্ভাগ্য ছিল।’

সুপার এইটে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি পাকিস্তান

শনিবার কলম্বোতে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ হবে নিউজিল্যান্ড। হেসন সতর্ক করে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সাম্প্রতিক সময়ে উপমহাদেশে অনেক খেলেছে, তাই আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।’ এই ম্যাচে দলের কৌশল ও খেলোয়াড় বাছাই নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করা হবে বলে জানান তিনি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কোচ হেসনের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তগুলো ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী ম্যাচগুলোতে বাবর আজমের ভূমিকা কী হবে, তা এখনই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।