বিশ্বকাপ বঞ্চনায় সালাউদ্দিনের ক্ষোভ: আসিফ নজরুলের 'ইউ-টার্নে' ক্রিকেটারদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অনুপস্থিতি নিয়ে গুমরে থাকা ক্ষোভ অবশেষে বিস্ফোরিত হয়েছে। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং এই ইস্যুতে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের 'পরস্পরবিরোধী' বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) শুরুর আগে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সালাউদ্দিন সরাসরি আক্রমণ করেন সাবেক এই উপদেষ্টাকে।
আসিফ নজরুলের 'ইউ-টার্ন' নিয়ে সালাউদ্দিনের বিস্ময়
বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে ১৯ দিনের ব্যবধানে দুই রকম দাবি করেছিলেন আসিফ নজরুল। শুরুতে তিনি বলেছিলেন এটি সরকারের সিদ্ধান্ত, কিন্তু পরে দায় চাপান ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ওপর। এ প্রসঙ্গে কোচ সালাউদ্দিন বলেন, "উনি একেবারে মিথ্যা কথা বলেছেন। আমি নিজেও একজন শিক্ষক, জানি শিক্ষকরা একটু কম মিথ্যা বলেন। কিন্তু উনি এভাবে খাঁড়ার ওপর মিথ্যা বলবেন, এটা আমি ভাবতেই পারছি না। উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন মানুষ হয়ে কীভাবে এভাবে 'ইউ-টার্ন' নিলেন, সেটা আসলে আমার ভাবনার বাইরে। মানে কীভাবে মানব এটা, আসলে আমার বলার মতো নয় যে, উনি কী বলে আসলেন আর এসে কীভাবে ইউ-টার্ন নিলেন।"
ক্রিকেটারদের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন
গত ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল বলেছিলেন, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে বিশ্বকাপে না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত। কিন্তু পরবর্তীতে অবস্থান পরিবর্তন করায় ক্রিকেটারদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়। সালাউদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, "একটা ছেলে যখন বিশ্বকাপ খেলে, সে তার ২৭ বছরের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামে। আপনি এক সেকেন্ডে সেই স্বপ্ন নষ্ট করে দেবেন! দেশের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করা যায়। কিন্তু যদি বলেন ক্ষতির কথা, ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা আমি বলবো— একটা ছেলের, একটা মানুষের স্বপ্ন আমরা সম্পূর্ণ শেষ করে দিচ্ছি।"
দুই ক্রিকেটার কোমায় চলে গিয়েছিল
বিশ্বকাপ বঞ্চিত হওয়ার মানসিক ধাক্কা কতটা ভয়াবহ ছিল, তার এক লোমহর্ষক বর্ণনা দেন এই অভিজ্ঞ কোচ। তিনি জানান, "আমি তো জানি আমার দুইজন ক্রিকেটার (মানসিকভাবে) কোমায় চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে তারা কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল। তাদের যে আবার টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি, এটাই আমার কোচিং জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য, সে মাঠে এসে আবার রান করেছে।"
হতাশা কাটিয়ে ফেরার লড়াই
বিশ্বকাপের এই ক্ষত ভুলে খেলোয়াড়দের সামনে তাকানোর তাগিদ দিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, "অধিনায়ক বা ক্রিকেটাররা এক-দেড় বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাদের জন্য এটা কতটা বেদনাদায়ক, সেটা তারাই জানে। আমরা যতই সান্ত্বনা দেই, যতই অনুপ্রেরণা দেই, যতই বকাঝকা করি, ক্ষতিটা তাদেরই হয়েছে।" তবুও শেষ কথা হিসেবে তিনি বলেন, "তবে আমার মনে হয় যে, এটাও আসলে ওভারকাম করতে হবে। এটাও কাটিয়ে ওটা তাদের শিখতে হবে। মাঝে মাঝে আপনাকে চরম সত্যি থেকে আসলে বাধ্য হবে। মেনে নিতে হবে, একটু মেনে নিতে হবে।"
উল্লেখ্য, নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ এবারের আসরে দর্শক হয়েই আছে, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্রিকেটারদের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার ঘটনা এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
