টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়: কোচ ম্যাকডোনাল্ডের দায় স্বীকার ও সমালোচনার জবাব
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়: কোচের দায় স্বীকার

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মর্মান্তিক বিদায়: আজ শেষ ম্যাচে ওমানের মুখোমুখি

বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার একেবারেই অসহায় অবস্থায় পড়েছে। টুর্নামেন্টের সুপার এইট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়ে তারা ইতিমধ্যেই বিদায় নিশ্চিত করেছে, যা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের আভিজাত্যে একটি গভীর ক্ষত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয়ের পর গ্রুপে একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে, এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা গেছে এই দলের ইতিহাসে।

সমালোচনার তীরে বিদ্ধ সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা

খুব স্বাভাবিকভাবেই, এই ভরাডুবির জন্য অস্ট্রেলিয়া দল ঘরে-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে। কিন্তু এই ব্যর্থতার দায় কার? অনেকে দাবি করছেন যে, বিশ্বকাপের জন্য দলটি যথাযথ প্রস্তুতি নেয়নি, বিশেষ করে বিগ ব্যাশ লিগকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি সিরিজে সিনিয়র খেলোয়াড়দের দেরিতে পাঠানো হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, পাকিস্তানের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর বিশ্বকাপে সুপার এইটে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।

তবে, দলটির প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি ছিল না; মাঠে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে খেলোয়াড়দেরই।’ ম্যাকডোনাল্ডের মতে, এই বিশ্বকাপকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগটি ‘ভুল বয়ান’ এবং ব্যর্থতার কারণেই এমন কথা উঠছে।

কোচ ম্যাকডোনাল্ডের সোজা কথা: দায় স্বীকার ও প্রত্যাশার চাপ

ওমানের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আমি শুনছি যে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নাকি আমাদের কাছে গুরুত্ব পায় না। আসলে ব্যর্থতার কারণেই এমন কথা উঠছে। ২০২১ সালে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, কিন্তু এর পর থেকে হয়তো সফল হতে পারছি না। অস্ট্রেলিয়া দলের কাছে প্রত্যাশা সব সময় আকাশচুম্বী থাকে, আর সেটা থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা অন্য সংস্করণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি—এই দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন।’

তিনি আরও যোগ করেন যে, চোটের কারণে প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো মূল পেসারদের অনুপস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে রাজি নন। ম্যাকডোনাল্ডের মতে, যারা দলে ছিলেন, তারাও ম্যাচ জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিলেন, কিন্তু মাঠের প্রয়োগে গলদ ছিল। ‘কারা নেই, সেটা বড় কথা নয়। যারা খেলেছে, পারফরম্যান্সটা তাদের কাছ থেকেই আসতে হতো। এই ব্যর্থতার দায় আমাদের নিতেই হবে। সমালোচনাগুলো যৌক্তিক এবং আমাদের তা মাথা পেতে নিতে হবে,’ বলেছেন তিনি।

ওমানের জন্য সুযোগ: অস্ট্রেলিয়ার দুর্বল মুহূর্তে আঘাত হানার চেষ্টা

আজ ওমানের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করবে অস্ট্রেলিয়া। এই পরিস্থিতিতে, ওমান অধিনায়ক যতিন্দর সিং বলেছেন যে, এটি অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সেরা সুযোগ। তিনি বলেন, ‘টি-টুয়েন্টি হলো মোমেন্টাম আর মুহূর্তের খেলা, যদি সেই মুহূর্তগুলোয় সঠিকভাবে খেলা যায়, তাহলে নির্দিষ্ট দিনে যেকোনো কিছু হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া এই মুহূর্তে ভালো করছে না...তাদের হারানোর সেরা সময় এটা।’

অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যর্থতা নিয়ে সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন যে, দলের নির্বাচন ও কৌশলগত ভুলই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। তবে, ম্যাকডোনাল্ডের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন।