আর্জেন্টিনার আদালতের নিষেধাজ্ঞা: এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার দেশত্যাগ বন্ধ
আর্জেন্টিনার আদালতের নিষেধাজ্ঞা: এএফএ সভাপতির দেশত্যাগ বন্ধ

আর্জেন্টিনার আদালতের কঠোর নির্দেশ: এএফএ সভাপতির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে দেশ ছাড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির আদালত। বৃহস্পতিবার আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, আদালত পাশাপাশি তাঁকে কর ফাঁকির মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

আদালতের ডাক ও তদন্তের বিস্তার

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, এএফএ সভাপতি তাপিয়াকে আগামী ৫ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। আর্জেন্টিনার কর সংস্থা এআরসিএ তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের অবৈধ ব্যবহার করার অভিযোগ এনেছে। আদালতের এই নির্দেশনা ফুটবল সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

তাপিয়ার পাশাপাশি এএফএর অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও ‘তদন্তাধীন ঘটনার গুরুত্বের কারণে’ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া এএফএ খেলোয়াড় ও কর্মচারীদের পেনশনের অর্থ ঠিকমতো জমা দিয়েছে কি না এবং মার্চ ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত যে কর পরিশোধ করতে হতো, তা যথাযথভাবে দিয়েছে কি না তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মূলত সংস্থাটি পেনশন ও কর–সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে কি না, সেটিই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশি অভিযান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে, পুলিশ এএফএর সদর দপ্তরে অভিযান চালায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে এমন অভিযান বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এএফএর দাবি, আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিবাদের কারণে তাদের মানহানির শিকার হতে হয়েছে।

সংস্থাটির দাবি, অভিযোগের মূল উৎস ওই ব্যবসায়ী এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলের সরকারও অবগত। উল্লেখ্য, মিলে যে ফুটবল ক্লাবগুলো অলাভজনক সেগুলোকে পাবলিকলি ট্রেডেড স্পোর্টস কোম্পানিতে রূপান্তর করার পক্ষপাতী। কিন্তু এএফএর নিয়ম তা অনুমোদন করে না, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই ঘটনাটি আর্জেন্টিনার ফুটবল জগতে একটি বড় ধরনের সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময়ে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে এএফএর নেতৃত্ব ও কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।