পাকিস্তান ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি উঠেছে
ভারতের বিপক্ষে রেকর্ড হার পাকিস্তান ক্রিকেট দলে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রোববার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে পাকিস্তান ৬১ রানে পরাজিত হয়, যা ভারতের বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে বড় রানের হার হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নেওয়া পাকিস্তান ১৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায়।
সাবেক ক্রিকেটারদের ক্ষোভ ও দাবি
এই ম্যাচের ফলাফলের পর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা শুধু ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়েই ক্ষুব্ধ নন, বরং দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়ার দাবিও তুলেছেন। বিশেষভাবে শাহিন আফ্রিদি, বাবর আজম এবং শাদাব খানের নাম উল্লেখ করে সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পরের ম্যাচে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ম্যাচে শাহিন আফ্রিদি বোলিংয়ে একমাত্র পেসার হিসেবে খেলেন, যিনি দুই ওভারে ৩১ রান দেন এবং শেষ দুই বলে দুই উইকেট নিলেও শুরুতে ঈশান কিশানের কাছে চার ও ছক্কা খান। অন্যদিকে, বাবর আজম ব্যাটিংয়ে দৃষ্টিকটু একটি 'স্লগ' শট খেলে মাত্র ৭ বলে ৫ রান করে আউট হন। শাদাব খান এক ওভারে ১৭ রান দেন এবং ব্যাট হাতে ১৫ বলে ১৪ রান করেন।
সিনিয়রদের সময় শেষ, নতুন মুখ চাই
সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফ এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, 'শাহিন, বাবর ও শাদাবের সময় শেষ। পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি স্কোয়াডে নতুন পারফরমার দরকার, দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে নামমাত্র জয় নয়।' শহীদ আফ্রিদিও একটি পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'বাবর, শাহিন ও শাদাবকে বাদ দিয়ে নামিবিয়ার বিপক্ষে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া উচিত।'
আরেক সাবেক ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদ বাবর আজমের ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে বাবরের জন্য এই ফরম্যাটে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের শেষ সুযোগ ছিল।
পাকিস্তানের সামনের চ্যালেঞ্জ
গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচ ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সুপার এইট পর্বে উঠতে হলে এই ম্যাচটি জিততেই হবে, অন্যথায় তাদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে দলে পরিবর্তনের দাবিগুলো আরও জোরালো হয়ে উঠছে, যা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য বড় সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করেছে।
