বিএনপি সরকারের আলোচনায় মাশরাফি-সাকিব ফেরার সম্ভাবনা
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে ক্রীড়াঙ্গনের টেবিলে উঠে এসেছে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসানের ইস্যু। বিএনপির নির্বাচিত একাধিক সংসদ সদস্য এই দুই ক্রিকেটারের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের দেশের জন্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছেন। সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন ও আলী আজগর লবী গতকাল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাদের মন্তব্য প্রকাশ করে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে পারেন এবং মাশরাফি আবার ক্রিকেটের মাঠে ফিরে আসতে পারেন।
মামলা ও বিশ্বাসের সংকট
দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সহ নানা অভিযোগ রয়েছে, যা তাদের ফেরার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি মাশরাফি ও সাকিবকে গণহত্যায় জড়িত বলে বিশ্বাস করেন না। তার মতে, এই মামলাগুলো বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি এবং দুই ক্রিকেটার দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ। আলী আজগর লবীও একই সুরে বলেছেন যে, দেশের স্বার্থে বিএনপি সরকার সাকিব-মাশরাফিকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
বিসিবির ভূমিকা ও নিরাপত্তা ইস্যু
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে সাকিব আল হাসানের ফেরার বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছিলেন যে, সাকিব ফিরবেন এবং তিনি খেলতে আগ্রহী। তবে সবকিছু নির্ভর করছে মামলার বর্তমান অবস্থা ও নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর। সাকিব আগেও নিরাপদে দেশ ছাড়ার গ্যারান্টি চেয়েছিলেন, যা বিসিবি দিতে পারেনি, ফলে তিনি পূর্বে ফেরার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিলেন। গুঞ্জন রয়েছে যে, ফেব্রুয়ারি মাসেই সাকিব দেশে ফিরতে পারেন এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে খেলার সুযোগ পেতে পারেন।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারি সিদ্ধান্ত
নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি, যা আইসিসির ভোটাভুটিতে ১৪-২ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানুয়ারিতে বলেছিলেন যে, সরকারের সিদ্ধান্তেই বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে অংশ নেয়নি। আলী আজগর লবী এই ইস্যুতে বিসিবির কূটনৈতিক বিজয় পাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নির্বাচনের আগে সাকিব ইস্যুতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছিলেন।
নতুন সরকারের আলোচনায় মাশরাফি ও সাকিবের ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আশার আলো জাগাচ্ছে। তবে মামলা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এই পথ এগোতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
