ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ঈশান কিষানের ঝড়ো ব্যাটিং, পাকিস্তানের ব্যর্থতা
প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারত ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে পাকিস্তানকে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত ‘এ’ গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করে সুপার এইট পর্বে উত্তীর্ণ হয়েছে। ম্যাচটি শুরু থেকেই একপেশে চরিত্র নিয়েছিল, যেখানে পাকিস্তান দল কোনো ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।
ম্যাচের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দর্শকদের প্রত্যাশা
ম্যাচের গ্যালারিতে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এবং বিসিসিআই সহসভাপতি রাজীব শুক্লার উপস্থিতি এই খেলার রাজনৈতিক তাৎপর্যকে তুলে ধরেছে। আইসিসির চেষ্টা ছিল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বৈরিতা কমিয়ে আনা, কিন্তু মাঠে দল দুটির মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। টসের আগে বা পরে ভারত ও পাকিস্তানের অধিনায়করা হাত মেলাননি, যা এখন এই ম্যাচগুলোর একটি স্বাভাবিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
ম্যাচের টিকিট কালোবাজারে চার গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল এবং ভারত থেকে শ্রীলঙ্কা যাওয়ার ফ্লাইটের দামও বেড়ে গিয়েছিল। কলম্বোর হোটেলগুলো পরিপূর্ণ ছিল দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়ে। কিন্তু ম্যাচটি একপেশে হয়ে ওঠায় দর্শকদের জন্য এটি কিছুটা হতাশাজনক অভিজ্ঞতা ছিল।
ভারতের ব্যাটিংয়ে ঈশান কিষানের দাপট
ভারত আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান সংগ্রহ করে। এই স্কোরের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন ঈশান কিষান, যিনি মাত্র ৪০ বলে ৭৭ রানের দ্রুতগতির ইনিংস খেলেন। তিনি ২৭ বলে অর্ধশতক করেন, যা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্রুততম ফিফটি। তিলক বর্মার সাথে তৃতীয় উইকেটে ৪৬ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়েন ঈশান, যদিও তিলকের অবদান ছিল মাত্র ৮ বলে ১১ রান।
ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে সূর্যকুমার যাদব ২৯ বলে ৩২ এবং তিলক বর্মা ২৪ বলে ২৫ রান করে কিছুটা ধীরগতিতে খেলেন। মিডল অর্ডারে তাদের স্ট্রাইক রেট প্রশ্নের মুখে পড়ে। শেষ দিকে শিবম দুবে ১৭ বলে ২৭ রান করে দলের স্কোরকে কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করেন। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের মন্থর উইকেটও ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল, যা ভারতের মোট রানকে ২০০-এর নিচে রাখতে ভূমিকা পালন করে।
পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয় ও বোলিং কৌশল
পাকিস্তান ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়। তাদের ইনিংসের শুরুই ছিল ভয়াবহ, প্রথম ৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩ রান। সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আগা এবং বাবর আজম দ্রুত আউট হয়ে দলকে গভীর সংকটে ফেলেন। উসমান খান ৩৪ বলে ৪৪ রান করে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হন, এবং শাদাব খানের সাথে তার ৩৯ রানের জুটি ছিল দলের একমাত্র উল্লেখযোগ্য অংশীদারি।
পাকিস্তানের বোলিং কৌশলও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অধিনায়ক সালমান আগা নিজে প্রথম ওভার বোলিং করে অভিষেক শর্মাকে শূন্য রানে আউট করেন, কিন্তু পরে পেসার শাহিন আফ্রিদিকে মাত্র ২ ওভার বোলিং করানো হয়। মোট ৭ বোলারের মধ্যে ৬ জনই ছিলেন স্পিনার, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের একটি ইনিংসে সর্বোচ্চ স্পিনার ব্যবহারের রেকর্ড গড়ে। সাইম ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে কার্যকর বোলার হিসেবে আবির্ভূত হন।
ম্যাচের ফলাফল ও পরিসংখ্যান
ভারতের পক্ষে বোলাররা সম্মিলিতভাবে ভালো পারফর্ম করেন। যশপ্রীত বুমরা, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল এবং বরুণ চক্রবর্তী প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন। পাকিস্তানের ইনিংসে শেষ ৬ উইকেট মাত্র ৪৩ রানে পড়ে যায়, যা তাদের পরাজয়কে নিশ্চিত করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
- ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (ঈশান ৭৭, সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭, তিলক ২৫; সাইম ৩/২৫, সালমান ১/১০, উসমান ২৪/১)।
- পাকিস্তান: ১৮ ওভারে ১১৪ (উসমান ৪৪, শাহিন ২৩*, শাদাব ১৪, বাবর ৫, সাইম ৬, সালমান ৪; বুমরা ২/১৭, পান্ডিয়া ২/১৬, অক্ষর ২/১৭, বরুণ ২/১৭)।
- ফল: ভারত ৬১ রানে জয়ী।
- ম্যাচসেরা: ঈশান কিষান (ভারত)।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের প্রচারণা শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেয়, অন্যদিকে পাকিস্তানকে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে। ম্যাচটি ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য একটি উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা একপেশে প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়।
