টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বিসিবি সভাপতি বুলবুলের অনুপস্থিতি ও ক্রিকেট কূটনীতি
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বিসিবি সভাপতি বুলবুলের অনুপস্থিতি

ভারত-পাকিস্তান মহারণে বিসিবি সভাপতির অনুপস্থিতি: ‘আমার দেশ নেই, তাই যাচ্ছি না’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত ভারত-পাকিস্তান লড়াই সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এই ম্যাচ আয়োজনে পাকিস্তানের বয়কট ইস্যুতে অনিশ্চয়তা ছিল, যা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দৌড়-ঝাঁপের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। এখন মাঠে ম্যাচটি গড়াতে আর কোনো সংশয় নেই।

বুলবুলের কলম্বো যাওয়া বাতিল: দেশের অনুপস্থিতি কারণ

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভা শেষে কুয়েত থেকে রবিবার ঢাকায় ফিরে বাংলা ট্রিবিউনকে বুলবুল বলেন, ‘আমার দেশ সেখানে নেই, তাই ভারত-পাকিস্তান খেলা দেখতে যাচ্ছি না। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেললে যেতাম।’ তিনি উল্লেখ করেন, আইসিসি ও আয়োজকরা তাকে আমন্ত্রণ জানালেও তিনি যাচ্ছেন না। ‘ওরা বলছে, তোমার কারণে এই ম্যাচ হচ্ছে আর তুমি আসবে না!’ – এমন মন্তব্যের জবাবে বুলবুল তার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।

ক্রিকেট কূটনীতিতে বাংলাদেশের উঁচু অবস্থান

বুলবুলের মতে, আজ ক্রিকেট কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান উঁচুতে উঠেছে, যা অনেকেই দেখছে না। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘সরকার খেলবে না বলেছে। এখানে আমাদের কী করার আছে? খেলতে না পেরে আমারও খারাপ লাগছে।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ চলবে।

আইসিসি বৈঠক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য আলোচনা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে এশিয়ার পাঁচ ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ কলম্বোয় থাকবেন বলে জানা গেছে, যার উপস্থিতিতে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার কথা বিসিবি সভাপতি বুলবুল, যদিও তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই এ বিষয়ে। আমার কাছে বাংলাদেশ আগে।’

নতুন সরকার ও বিসিবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বাংলাদেশে নতুন সরকার আসতে যাচ্ছে, এবং বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করতে পারে। এ নিয়ে বুলবুল বলেন, ‘দেখুন আমি রাজনীতি করি না, রাজনৈতিক ব্যক্তিও নই। ক্রিকেটের কল্যাণে কাজ করতে এসেছি।’ তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকারের সঙ্গে ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করা হবে, এবং বিসিবি একটি আলাদা বডি হিসেবে আইসিসির অধীনে চলবে। নতুন বোর্ড গঠন বা নির্বাচনের গুঞ্জন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখানে নতুন করে নির্বাচনের কিছু নেই। ক্রিকেট তার আপন গতিতে চলবে।’

সামগ্রিকভাবে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ও বিসিবি সভাপতির সিদ্ধান্ত ক্রিকেট জগতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা ক্রিকেট কূটনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।