টাকার-ডকরেলের বিস্ফোরক জুটি: টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ড ভাঙল আয়ারল্যান্ড
টাকার-ডকরেলের জুটিতে রেকর্ড, আয়ারল্যান্ডের বড় জয়

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের রেকর্ড ভাঙা জয়

২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও ওমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৩৫ রান তুলে একটি নতুন রেকর্ড গড়েছে। ওমান ১৮ ওভারে ১৩৯ রানে অল-আউট হয়ে ৯৬ রানে পরাজিত হয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ড গ্রুপ পর্বে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে, অন্যদিকে ওমান তিন ম্যাচ হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করেছে।

বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে রেকর্ড ভাঙল আয়ারল্যান্ড

ম্যাচের শুরুতেই আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ কিছুটা নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। প্রথম ৫ ওভারে ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা চাপে পড়ে। ৭.৩ ওভারে ৬৪ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। টিম টেক্টর, রস আদাইর, হ্যারি টেক্টর এবং কার্টিস ক্যাম্ফার দ্রুত আউট হয়ে গেলে আইরিশ সমর্থকরা বড় স্কোরের আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু অধিনায়ক লোরকান টাকার এবং গ্যারেথ ডেলানির অবিশ্বাস্য জুটি পরিস্থিতি পাল্টে দেয়।

পঞ্চম উইকেটে টাকার ও ডেলানি ৫৬ বলে ১০১ রানের জুটি গড়ে দলকে পুনরুদ্ধারের পথে নিয়ে যায়। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে টাকারের সঙ্গে জর্জ ডকরেলের ১৯ বলে ৭০ রানের বিস্ফোরক জুটি ম্যাচটিকে একেবারে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। ওমানের বোলারদের বিরুদ্ধে তাঁদের এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখে সবাই হতবাক। টাকার ৫১ বলে অপরাজিত ৯৪ রান করেন, যাতে ছিল ৪টি ছক্কা ও ১০টি চার। ডেলানি করেন ৩০ বলে ৫৬ রান, আর ডকরেল অপরাজিত থাকেন ৯ বলে ৩৫ রানে।

নতুন রেকর্ড: ওভারপ্রতি সর্বোচ্চ রান

টাকার ও ডকরেলের এই জুটিতে একটি অভূতপূর্ব রেকর্ড গড়া হয়েছে। তাঁরা ১৯ বলে ৭০ রান তুলে ওভারপ্রতি গড়ে ২২.১০ রান করেন, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো জুটির জন্য সর্বোচ্চ। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসি ও মিচেল জনসনের, যারা ১৬ বলে ৫৩* রান তুলে ওভারপ্রতি ১৯.৮৭ রান করেছিলেন।

এছাড়াও, আয়ারল্যান্ডের শেষ ৫ ওভারে ৯৩ রান তোলা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে 'ডেথ ওভারে' (১৬-২০) তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। টাকারের ৯৪ রানের ইনিংসটি ক্রিস গেইলের পর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে।

ওমানের ব্যাটিং বিপর্যয় ও রেকর্ড

ওমানের ব্যাটিং শুরুটা মোটামুটি ভালোই ছিল। ১০ ওভার শেষে তারা ২ উইকেটে ৮৫ রান তুলে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ছিল। কিন্তু পরের ৮ ওভারে তারা ধীরে ধীরে ছিটকে পড়ে এবং ৫৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮ ওভারে ১৩৯ রানে অল-আউট হয়। ওপেনার আমির কলিম ২৯ বলে ৫০ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোর করেন, যার মাধ্যমে তিনি ৪৪ বছর ৮৬ দিন বয়সে আইসিসি টুর্নামেন্টে ফিফটি করার সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েন। হাম্মাদ মির্জা ৩৭ বলে ৪৬ রান করেন, কিন্তু তা দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।

বিশ্বকাপে দুইশোর্ধ্ব স্কোরের ধারা

এই ম্যাচের মাধ্যমে ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই পাঁচবার দলীয় দুই শ রানের স্কোর দেখা গেছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। এর আগে শুধু ২০০৭ বিশ্বকাপেই এক আসরে পাঁচবার দুই শ রানের স্কোর দেখা গিয়েছিল। আয়ারল্যান্ডের ২৩৫ রান এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ, এবং টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কা কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৬০ রান তুলে প্রথম স্থান দখল করে আছে।

এই ম্যাচটি প্রমাণ করে যে, এবারের বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামছেন, যা দর্শকদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ খেলা নিশ্চিত করছে। আয়ারল্যান্ডের এই জয় তাদের গ্রুপ পর্বে এগিয়ে রাখলেও, ওমানের জন্য টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে গেছে।