জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক জয়: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারালো
জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক জয়: অস্ট্রেলিয়াকে হারালো

জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক জয়: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারালো

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। শিরোপা প্রত্যাশী অস্ট্রেলিয়াকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ২৩ রানে হারিয়ে দিয়েছে তারা। ২০২৪ আসরে জায়গা না পাওয়া জিম্বাবুয়ের এটি দ্বিতীয় জয়, যা তাদের বিশ্বকাপ অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মুজারাবানির আগুনঝরা বোলিং

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ম্যাচ জয়ের মূল কারিগর ব্লেসিং মুজারাবানি। তার আগুনঝরা বোলিংয়ে চমক দেখিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জয়ের নায়ক মুজারাবানি, যা তার ক্যারিয়ার সেরা ফিগার হিসেবে স্বীকৃত।

১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পরে ম্যাট রেনশ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের পঞ্চম উইকেটে ৭৭ রানের জুটি অজিদের ম্যাচে ফেরার আশা জাগায়। কিন্তু ১৫তম ওভারে ম্যাক্সওয়েলকে ৩১ রানে বোল্ড করে জিম্বাবুয়েকে আবার ম্যাচে ফেরান বার্ল। একপ্রান্তে তখনও লড়াই চালিয়ে যান রেনশ।

ম্যাচের চূড়ান্ত মুহূর্ত

শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। কিন্তু আট বল বাকি থাকতে মুজারাবানিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৬৫ রানে থামেন রেনশ। কার্যত সেখানেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানে থামে অজি দল। রেনশর ৪৪ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা, যা পর্যাপ্ত হয়নি জয় পেতে।

গ্রুপ পর্বের সমীকরণ

দুই ম্যাচ শেষে ‘বি’ গ্রুপের সমীকরণ জমে উঠেছে। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে-শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৪। অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট, যা তাদের পরবর্তী ম্যাচে চাপের মুখে ফেলেছে।

জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং পারফরম্যান্স

এর আগে কলম্বোতে টসে হেরে শুরুতে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং ছিল ধীর গতির। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ৫৬ বলে অপরাজিত ৬৪ রান করেন, যেখানে ছিল সাতটি চার এবং স্ট্রাইক রেট ১১৪.২৮। তাদিওয়ানাশে মারুমানি ২১ বলে ৩৫ এবং রায়ান বার্ল ৩০ বলে ৩৫ রান করে ইনিংসে গতি আনেন।

পরে শেষ দিকে কার্যকরী ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ১৩ বলে অপরাজিত ২৫ রান করেন তিনি, ইনিংসের শেষ বলেই আসে দলের একমাত্র ছক্কা এবং দুটি চার মারেন। তাতে সব মিলে ২ উইকেটে জিম্বাবুয়ে পায় ১৬৯ রানের সংগ্রহ, যা জয়ের ভিত্তি তৈরি করে।