নিরাপত্তা শঙ্কায় বিশ্বকাপ বর্জন, পুরস্কার পেল বাংলাদেশ: আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ
বিশ্বকাপ বর্জনে পুরস্কার: আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেল বাংলাদেশ

নিরাপত্তা শঙ্কায় বিশ্বকাপ বর্জন, পুরস্কার পেল বাংলাদেশ: আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এই সিদ্ধান্তের ফলে টাইগাররা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারালেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদেরকে শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কৃত করেছে। ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্টের সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশকে নির্বাচিত করা হয়েছে, যা ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মতে একটি ব্রিলিয়ান্ট অ্যাচিভমেন্ট এবং কূটনৈতিক বিজয়।

নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ দল মূলত পাকিস্তানের মতো শ্রীলংকায় গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে চেয়েছিল, কিন্তু আইসিসি সেই সুযোগ দেয়নি। ফলে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার এক প্রশ্নের উত্তরে ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, ‘কোনো অনুশোচনা, প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে দেশের ক্রিকেটের, ক্রিকেটারদের, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে … আমার মনে হয় যে একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কার

গণমাধ্যমে প্রচারিত খবর অনুযায়ী, বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশকে বড় ধরনের শাস্তি দিতে যাচ্ছিল আইসিসি। তবে পাকিস্তানের লাহোরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং আইসিসির মধ্যকার ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বরং বাংলাদেশ পুরস্কার পেয়েছে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।

কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে মূল্যায়ন

এই সাফল্যকে বিসিবির কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন ড. আসিফ নজরুল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেখেন, তারা যে ক্রিকেট কূটনীতিটা করেছে, আল্টিমেটলি এখন আইসিসি বলছে, আমাদেরকে কোনোরকম শাস্তি-টাস্তি তারা দেবে না, বরং একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক তারা করবে। ব্রিলিয়ান্ট অ্যাচিভমেন্ট, স্যালুট টু দ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এরকম সিদ্ধান্ত ১০ বার নেওয়ার সুযোগ এলে ১০ বারই এটিই নেওয়া উচিত।’

এই ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করছেন। নিরাপত্তা শঙ্কাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি ভবিষ্যতে অন্যান্য দলের জন্যও একটি মাইলফলক হতে পারে।