দুই সুপার ওভারের নাটকীয় লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর একটি ম্যাচ উপহার দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান। আহমেদাবাদের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল উত্তেজনা আর নাটকীয়তায় ভরপুর, যেখানে নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচ টাই হওয়ার পর দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারাতে সক্ষম হয় প্রোটিয়ারা।
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের নাটকীয় সমাপ্তি
ম্যাচের প্রথম সুপার ওভারও টাই হয়েছিল, যা দ্বিতীয় সুপার ওভারে গড়ায়। সেখানে ডেভিড মিলারের চার বলে ১৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা বিনা উইকেটে ২৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আফগানিস্তান চার রানের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত হার মেনে নেয়। শেষ বলে ৫ রানের প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানের, কিন্তু রহমানউল্লাহ গুরবাজ মহারাজের বলে আউট হলে উল্লাসে মেতে ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকার দল।
নির্ধারিত সময়ের লড়াই
এর আগে, কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনের হাফসেঞ্চুরির সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করেছিল। জবাবে আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজ ৪২ বলে ৮৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ম্যাচকে টাইয়ের দিকে নিয়ে যান। আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও রশিদ খান যথাক্রমে ২২ ও ২০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে আফগানিস্তানকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান, হাতে ছিল মাত্র এক উইকেট। কাগিসো রাবাদার করা দুটি নো-বলে তারা ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ পায়। তবে চতুর্থ বলে জয়ের জন্য দুই রান নিতে গিয়ে রানআউট হন ফজল হক ফারুকি, যা স্কোর টাই করে ম্যাচকে সুপার ওভারে নিয়ে যায়।
সুপার ওভারের নাটক
প্রথম সুপার ওভারে আফগানিস্তান ১৭ রান সংগ্রহ করে, আর দক্ষিণ আফ্রিকাও ১ উইকেট হারিয়ে ১৭ রান তুলে। ফলে ম্যাচ আবার যায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে, যেখানে শেষ হাসি হাসে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ইতিহাসে স্থান
ছেলেদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একাধিক সুপার ওভারে গড়ানো ম্যাচের এটি তৃতীয় নজির। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দুই সুপার ওভারের লড়াইয়ে আফগানিস্তানকে হারিয়েছিল ভারত। গত বছরের জুনে তিন সুপার ওভারের পর নেপালকে হারায় নেদারল্যান্ডস। এই ম্যাচটি ক্রিকেট ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে স্থান পেয়েছে, যা দর্শকদের জন্য অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।
