দীর্ঘ ৯ বছর পর আবারও শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল পেশোয়ার জালমি। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনালে বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানার নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষ হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি।
নাহিদ রানার অবদান
নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালে পিএসএলের ফাইনাল খেলতে নাহিদ রানাকে দলে পেতে আগ্রহ দেখায় পেশোয়ার জালমি। বিসিবি প্রধান সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে তাকে ছাড়পত্র দেন। সুযোগ পেয়ে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন এই বাংলাদেশি পেসার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষ হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে কম রানে আটকে রেখে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় পেশোয়ার। নাহিদ ২২ রানে দুই উইকেট শিকার করেন।
পেশোয়ারের ব্যাটিং
ছোট লক্ষ্যে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় পেশোয়ার। প্রথম ওভারে মোহাম্মদ হারিস ও বাবর আজমকে এক বলের বিরতি দিয়ে ফেরান মোহাম্মদ আলি। দারুণ ফর্মে থাকা বাবর গোল্ডেন ডাক মারেন। হারিস করেন ৬ রান। ৭ রানে দুই উইকেট পড়ার পর রানের গতি বাড়াতে গিয়ে ফের হোঁচট খায় পেশোয়ার। পাওয়ার প্লেতেই ৭ রানের ব্যবধানে কুশল মেন্ডিস ও মাইকেল ব্রেসওয়েলকে হারায় তারা। এরপর এরন হার্ডি ও আব্দুল সামাদের অপরাজিত জুটিতে জয় দেখছিল পেশোয়ার। কিন্তু সামাদকে ৪৮ রানে ফিরিয়ে ৮৫ রানের জুটি ভেঙে দেন আলি। ফারহান ইউসুফ চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন। ১৫.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩০ রান করে পেশোয়ার। হার্ডি ৩৯ বলে ৯ চারে ৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
হায়দরাবাদের ব্যাটিং
এর আগে ভালো শুরুর পরও বড় রান করতে পারেনি হায়দরাবাদ কিংসম্যান। সাইয়ুম আইয়ুবের ব্যাটে যে শক্ত ভিত পেয়েছিল দল, সেটা কেউই কাজে লাগাতে পারেনি। মিডল অর্ডার ব্যর্থতায় দেড়শ রানের আগেই অলআউট মার্নাস ল্যাবুশেনের দল।
লাহোরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে হায়দরাবাদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাইয়ুম। শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন মাজ সাদাকাত। ৬ বলে ১১ রান করে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দলেও উইকেটে থিতু হতে পারেননি তিনি। আরেক ওপেনার ল্যাবুশেন করেছেন ১২ বলে ২০। তিনে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন সাইয়ুম। ৪২ বলে করেছেন ব্যক্তিগত ফিফটি। তবে কেউই তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। ফলে এক প্রান্তে সাইয়ুম দারুণ ব্যাটিং করলেও আরেক প্রান্তে ছিল ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিল। ফলে ১২৯ রানেই থেমেছে হায়দরাবাদের ইনিংস।
পেশোয়ারের বোলিং
পেশোয়ারের হয়ে ২৭ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ইনিংসের সেরা বোলার এরন হার্ডি। এ ছাড়া নাহিদ রানা ২ টি, মোহাম্মদ বাসিত ও সুফিয়ান মুকিম একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।



